যুদ্ধ এড়ানোর প্রচেষ্টায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা
গত কয়েক দশকের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তররাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতির আবহের মধ্যে যুদ্ধ এড়ানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডে আলোচনায় বসেছে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিরা। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
ওমানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে বারবার আক্রমণের হুমকি দিয়ে আসছেন। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট তেহরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ১৫ দিনের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ওমানি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধি দল এসে পৌঁছায়। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরানি নির্বাসিতদের একটি দল বিক্ষোভ করেছিল এবং ইরানি মোটরশোভাযাত্রা লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে মেরেছিল।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি আলোচনা শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উভয় পক্ষই ‘নতুন ও সৃজনশীল ধারণা ও সমাধানের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উদারতা’ প্রদর্শন করেছে। পরে তিনি জানান, আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে তবে দিনের শেষভাগে তা পুনরায় শুরু হবে।
আলোচনার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এএফপি-কে জানিয়েছে, জাতিসংঘের পারমাণবিক কর্মসূচি প্রধান রাফায়েল গ্রসি এই আলোচনায় যোগ দিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একজন সাংবাদিকও তার উপস্থিতির কথা জানিয়েছেন।
আলোচনার আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আদৌ পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে চাইছে না।
ইরান এই আলোচনাটি কেবলমাত্র তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইলেও, যুক্তরাষ্ট্র চায় তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তাদের সমর্থন কমিয়ে আনা হোক।
যুক্তরাষ্ট্রের নাটকীয় সামরিক সমাবেশের অংশ হিসেবে, বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড চলতি সপ্তাহে ভূমধ্যসাগরে পাঠানোর পর বৃহস্পতিবার সেটি ক্রিটের একটি নৌঘাঁটি ত্যাগ করেছে বলে এএফপি-র একজন আলোকচিত্রী জানিয়েছেন।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের এক ডজনেরও বেশি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে; যার মধ্যে একটি বিমানবাহী রণতরী (ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন), নয়টি ডেস্ট্রয়ার এবং অন্য তিনটি যুদ্ধজাহাজ।
এই অঞ্চলে একসাথে দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর উপস্থিতি বিরল ঘটনা। প্রতিটি রণতরী কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান বহন করে এবং হাজার হাজার নাবিক এতে কর্মরত থাকেন।
সম্প্রতি ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভের ঘটনার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে দেশটিতে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে হাজার হাজার প্রতিবাদকারী নিহত হয়েছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক