ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে : তেহরান
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন ও ওয়াশিংটনের ক্রমাগত হামলার হুমকির মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে আলোচনার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি জানিয়েছেন, উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও একটি আলোচনার কাঠামো তৈরির কাজ এগিয়ে চলেছে। খবর আল জাজিরার।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লারিজানি বলেন, কৃত্রিম মিডিয়া যুদ্ধের ডামাডোলের বাইরেও আলোচনার একটি কাঠামো গঠনের কাজ এগোচ্ছে। তবে এই কাঠামো বা আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। তারা সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে একটি চুক্তি করতে বেশি আগ্রহী বলে আমি বিশ্বাস করি। তবে আমাদের একটি বিশাল নৌবহরও ওই অঞ্চলের দিকে যাচ্ছে। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে একটি বিশাল নৌবহর বা ‘আর্মডা’ ইরানে মোতায়েন করেছে, যা সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর দুই দিনের নৌ মহড়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে বলেছে, অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ সংঘর্ষ ও অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়ায়।
এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আমাদের নিজ ভূখণ্ডে আমাদের বাহিনীকে মহড়া নিয়ে নির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা হাস্যকর। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মার্কিন সরকার যে আইআরজিসি-কে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, তাদের কাছ থেকেই আবার ‘পেশাদারিত্ব’ কামনা করছে তারা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে কাতার। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি শনিবার তেহরানে আলী লারিজানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কাতার সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে কাতার।
ইরান থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক তোহিদ আসাদি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত ‘ভঙ্গুর ও নাজুক’, তবে লারিজানির বিবৃতি একটি ইতিবাচক লক্ষণ। তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও তাদের শর্ত হলো—ট্রাম্পকে আগে হামলার হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক