গ্রিনল্যান্ড দখল ঠেকাতে মার্কিন সিনেটরদের বিল উত্থাপন
গ্রিনল্যান্ডসহ ন্যাটোভুক্ত কোনো ভূখণ্ড দখল বা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উদ্যোগ যেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিতে না পারেন সে লক্ষ্যেই নতুন একটি বিল উত্থাপন করেছেন মার্কিন সিনেটররা।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দ্বিদলীয় উদ্যোগে আনা ‘ন্যাটো ইউনিটি প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশের ভূখণ্ড ‘অবরোধ, দখল, সংযুক্তিকরণ বা অন্য কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার’ কাজে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র দপ্তরের তহবিল ব্যবহার করা যাবে না। খবর আল জাজিরার।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শাহিন ও রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকাউস্কির প্রস্তাবিত এই বিলটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ট্রাম্প বারবার বলছেন—ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করেই যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
নিউ হ্যাম্পশায়ারের সিনেটর জিন শাহিন এক বিবৃতিতে বলেন, এই দ্বিদলীয় আইন স্পষ্ট করে দিচ্ছে—মার্কিন করদাতাদের অর্থ এমন কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না, যা ন্যাটোকে ভেঙে দিতে পারে এবং আমাদের নিজেদের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে।
শাহিন আরও বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থকেই ক্ষুণ্ন করছে এবং কংগ্রেসে এর বিরুদ্ধে দ্বিদলীয় বিরোধিতা রয়েছে।
ট্রাম্পের বিরল রিপাবলিকান সমালোচকদের একজন আলাস্কার সিনেটর লিসা মারকাউস্কি বলেন, ৩২ সদস্যের ন্যাটো জোটই বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয়। তিনি বলেন, আমাদের বিপুল সম্পদ মিত্রদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করা হবে—এমন ধারণা গভীরভাবে উদ্বেগজনক এবং কংগ্রেসকে আইন করে এটি পুরোপুরি নাকচ করতে হবে।
ইউরোপে উদ্বেগ
গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। ন্যাটোর মূল নীতি হলো—এক সদস্যের ওপর হামলা মানে সবার ওপর হামলা। ট্রাম্পের বক্তব্য সেই ঐক্যের ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন অনেকে।
ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ না নিলে চীন বা রাশিয়া এই বিশাল আর্কটিক অঞ্চলটি দখলে নিতে পারে। অঞ্চলটি বিপুল পরিমাণ জীবাশ্ম জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ।
রোববার (১১ জানুয়ারি) ট্রাম্প বলেন, আমি ওদের সঙ্গে একটা চুক্তি করতে চাই। সেটা সহজ। কিন্তু একভাবে হোক বা অন্যভাবে—গ্রিনল্যান্ড আমাদেরই হবে।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কড়া বার্তা
ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ও গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন কোপেনহেগেনে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কড়া অবস্থান জানান।
নিলসেন বলেন, এখানে যদি যুক্তরাষ্ট্র আর ডেনমার্কের মধ্যে বেছে নিতে হয়, আমরা ডেনমার্ককেই বেছে নেব। আমরা ন্যাটোকে বেছে নেই, আমরা ডেনমার্ক রাজ্যকে বেছে নেই, আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বেছে নেই।
কূটনৈতিক তৎপরতা
বুধবার ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোটজফেল্ট ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এ ছাড়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস ও রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসসহ কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা শুক্রবার ডেনমার্ক সফরে যাচ্ছেন এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
গ্রিনল্যান্ডের মানুষের মত
গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৫৭ হাজার বাসিন্দার বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার বিরোধী। গত বছর ডেনমার্কের পত্রিকা বার্লিংস্কের করা এক জরিপে দেখা যায়, ৮৫ শতাংশ বাসিন্দা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হতে চান না। মাত্র ৬ শতাংশ এর পক্ষে মত দিয়েছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক