এসটিসির কাছ থেকে দক্ষিণ ইয়েমেনের বেশকিছু অঞ্চল পুনর্দখলের দাবি সরকারের
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার জানিয়েছে, তারা দেশটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো আবার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এসব এলাকা এর আগে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) দখলে রেখেছিল।
সৌদি আরব সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (পিএলসি) প্রধান রাশাদ আল-আলিমি স্থানীয় সময় শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক ভাষণে বলেন, আমি দেশের প্রেসিডেন্ট ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে নিশ্চিত করছি—হাদরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশ পুনর্দখল করা হয়েছে এবং দক্ষিণ ইয়েমেন এখন সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। খবর আল জাজিরার।
রাশাদ আল-আলিমি জানান, এসটিসির সাবেক সদস্যদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্য সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সব সামরিক বাহিনী এখন থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অধীনে কাজ করবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
গত বছরের শেষ দিকে এসটিসি হাদরামাউত ও আল-মাহরা দখল করলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। সৌদি সমর্থিত সাম্প্রতিক অভিযানে এসব অঞ্চল থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। সৌদি আরব সীমান্তবর্তী এই দুই প্রদেশ ইয়েমেনের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ডজুড়ে অবস্থিত।
এই সংঘাত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যে সম্পর্কেও টানাপোড়েন বাড়িয়েছে। ইয়েমেন সরকার সৌদির মিত্র ইউএইকে এসটিসিকে সমর্থনের অভিযোগ তুলেছে।
সরকারের এই ঘোষণার মধ্যেই এসটিসির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আদেনে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। খোর মাকসার এলাকায় তারা সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং সাবেক দক্ষিণ ইয়েমেনের পতাকা উড়িয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানায়।
এক বিক্ষোভকারী বলেন, আমরা বহু বছর ধরেই বলে আসছি—আমাদের চাই স্বাধীন দক্ষিণ ইয়েমেন।
কিছু বিক্ষোভকারী এসটিসি নেতা আইদারুস আল-জুবাইদির ছবি বহন করেন। জুবাইদি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।
চলতি সপ্তাহে এসটিসির একটি প্রতিনিধি দল রিয়াদে আলোচনায় অংশ নেয়। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) তারা হঠাৎ সংগঠনটি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। সংগঠনের মহাসচিব আবদুল রহমান জালাল আল-সেবাইহি জানান, অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও আঞ্চলিক চাপের কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে শনিবার (১০ জানুয়ারি) এসটিসি এক বিবৃতিতে জানায়, রিয়াদে দেওয়া ভাঙনের ঘোষণা ছিল ‘চাপ ও জোরপূর্বক আদায় করা’, তাই সেটিকে তারা বাতিল বলে ঘোষণা করেছে এবং দক্ষিণাঞ্চলে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
পিএলসি প্রধান রাশাদ আল-আলিমি তার ভাষণে উত্তর ইয়েমেন নিয়ন্ত্রণকারী হুথি বিদ্রোহীদের উদ্দেশেও সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, তারা চাইলে আলোচনায় বসতে পারে, নতুবা সামরিক জবাবের মুখোমুখি হবে।
২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখল করা হুথিরা এখনো আল-আলিমির নেতৃত্বাধীন সরকারকে বৈধ কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক