আকাশ প্রতিরক্ষায় পাকিস্তানকে বড় অনুদান, ভারতকে কী বার্তা দিলেন ট্রাম্প?
এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের উন্নত প্রযুক্তি ও আধুনিকায়নে পাকিস্তানের জন্য প্রায় ৬৯৬ মিলিয়ন ডলারের বিশাল এক প্যাকেজ অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের চলমান উত্তেজনা ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে বৈরী সম্পর্কের মধ্যেই এই চুক্তি হলো। বিষয়টি নয়াদিল্লির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো বার্তা কি-না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। খবর আলজাজিরার।
চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা সংস্থা (ডিএসসিএ)। সংস্থাটি বলছে, এই চুক্তি মূলত পাকিস্তানের বিদ্যমান এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের বহর রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নে সহায়তা করবে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত ফ্লাইট অপারেশনাল সফটওয়্যার, নেভিগেশন আপগ্রেড ও গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক-১৬ সিস্টেম।
তবে এই চুক্তি এমন সময়ে হলো যখন ট্রাম্প প্রশাসন ভারতকে তাদের কাছ থেকে আরও অস্ত্র কেনার জন্য চাপ দিচ্ছে। ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখায় ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের আমদানি করা পণ্যে অতিরিক্ত শুল্কও আরোপ করেছে। এই পরিস্থিতিতে, পাকিস্তানের জন্য এই বৃহৎ নিরাপত্তা সহায়তা এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন বা ভাইপার নামেও পরিচিত। এটি একটি একক-ইঞ্জিন বিশিষ্ট বিমান। এটি মূলত আকাশ থেকে আকাশে যুদ্ধ ও আকাশ থেকে স্থলে আক্রমণ উভয়ের জন্যই ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে লকহিড মার্টিন এটি তৈরি করে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের শেষ দিকে এটি তৈরি করা হয়েছিল। এটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে অন্যতম।
ব্রাসেলস-ভিত্তিক বিশ্লেষক প্রবীন দোনথি বলেছেন, ভারত অতীতে পাকিস্তানের এফ-১৬ রক্ষণাবেক্ষণে মার্কিন সহায়তার বিরোধিতা করেছিল। ভারত দাবি করে, এই বিমানগুলি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ডিসি-ভিত্তিক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, এই চুক্তিটি মূলত পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা। এটি ভারতের ওপর চাপ দেওয়ার একক কৌশল না-ও হতে পারে।
তবুও প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের এই অনুদানকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানকে দেওয়া সবচেয়ে উদার সহায়তাগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই প্যাকেজটি ট্রাম্প প্রশাসনের পাকিস্তানের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক