থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতিতে রাজি : ট্রাম্প
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া আজ থেকে ‘সব ধরনের গুলিবর্ষণ বন্ধ করতে’ সম্মত হয়েছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) থাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেটের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এই যুদ্ধবিরতির কথা জানান। খবর আল জাজিরার।
ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, তারা আজ শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে সমস্ত গুলিবর্ষণ বন্ধ করতে রাজি হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সহায়তায় আমার ও তাদের সঙ্গে করা মূল শান্তি চুক্তিতে ফিরে যেতে সম্মত হয়েছে।
এই সপ্তাহে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় প্রতিবেশী দুই দেশের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছে ও প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। গত জুলাই মাসে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে মূল যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সম্মত না হলে বাণিজ্য সুবিধা প্রত্যাহারের ট্রাম্পের হুমকির মুখে সেই চুক্তি কার্যকর হয়। নভেম্বরে সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে থাই সৈন্যরা আহত হওয়ার পর থাইল্যান্ড চুক্তিটি স্থগিত করে। কম্বোডিয়ার সেনারা থাই ইঞ্জিনিয়ারিং দলের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগে সর্বশেষ সহিংসতা শুরু হয়। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) এই যুদ্ধ পঞ্চম দিনে গড়ায়। তবে, থাইল্যান্ড বা কম্বোডিয়া কেউই স্বাধীনভাবে সর্বশেষ এই চুক্তির বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করেনি।
আগের দিন বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বলেছিলেন, তিনি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন সহিংসতা বন্ধ করার দায়িত্ব কম্বোডিয়ার। অনুতিন ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান যেন তিনি কম্বোডিয়াকে জানান, ‘বিশ্বের কাছে ঘোষণা করা দরকার যে কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে।’
আল জাজিরার কিম্বার্লি হ্যালকেট ওয়াশিংটন জানান, ট্রাম্প এই ঘোষণাকে বিশ্বব্যাপী ‘শান্তি প্রতিষ্ঠাতা’ হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য ব্যবহার করছেন বলে মনে হচ্ছে। তিনি জুলাই মাসের যুদ্ধবিরতি পুনরায় শুরু করতে অত্যন্ত আগ্রহী।
থাই-কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘাতের মূলে রয়েছে ঔপনিবেশিক যুগের ৮০০ কিলোমিটার (৫০০ মাইল) সীমান্তের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ। এই সংঘাতের শিকড় ১৯০৭ সালে ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে তৈরি করা একটি মানচিত্র থেকে উদ্ভূত, যা থাইল্যান্ড ভুল বলে মনে করে। ১৯৬২ সালের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের একটি রায়ে কম্বোডিয়াকে সার্বভৌমত্ব প্রদানের ফলে এই উত্তেজনা আরও বেড়েছিল, যা অনেক থাই নাগরিক এখনও মেনে নিতে পারেনি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক