‘অটোপেন’ ব্যবহার করা বাইডেনের সব নির্বাহী আদেশ বাতিল করবেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে জারি করা সব নির্বাহী আদেশ বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, বাইডেনের বেশিরভাগ আদেশ ‘অটোপেন’ (স্বাক্ষর নকল করার একটি যন্ত্র) ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এ ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর আলজাজিরার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, ‘স্নিপি (ঘুমন্ত) জো বাইডেনের অটোপেন দিয়ে সই করা যেকোনো নথি, যার সংখ্যা প্রায় ৯২ শতাংশ, এতদ্বারা বাতিল করা হলো এবং সেগুলোর আর কোনো কার্যকারিতা থাকবে না।’
ট্রাম্প দীর্ঘকাল ধরে দাবি করে আসছেন, বেশি বয়স এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির কারণে বাইডেন নির্বাহী অফিসের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন না। তার অভিযোগ, বাইডেনের অজান্তেই অন্য কেউ অটোপেন ব্যবহার করে নীতিগত নথিতে সই করে গেছেন। ট্রাম্প আরও হুমকি দিয়েছেন, যারা এই অটোপেন প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রেসিডেন্টের বিশেষ অনুমোদন না থাকলে অটোপেন ব্যবহার করা যায় না উল্লেখ করে ট্রাম্প লেখেন, ‘ওভাল অফিসের সুন্দর রেজোলিউট ডেস্কের চারপাশে বাইডেনকে ঘিরে থাকা উগ্র বাম পাগলরা তার কাছ থেকে প্রেসিডেন্টের পদ কেড়ে নিয়েছে। আমি এতদ্বারা সমস্ত নির্বাহী আদেশ বাতিল করছি, এবং অন্য যেকোনো কিছু যা সরাসরি জো বাইডেনের স্বাক্ষরিত ছিল না, কারণ যারা অটোপেন পরিচালনা করেছিলেন তারা অবৈধভাবে এটি করেছিলেন‘
ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘জো বাইডেন অটোপেন প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন না, যদি তিনি বলেন, তিনি ছিলেন, তাহলে তাকে শপথভঙ্গের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।’
উল্লেখ্য, হোয়াইট হাউসে অটোপেন বা অনুরূপ যান্ত্রিক স্বাক্ষর যন্ত্রের ব্যবহার বহু পুরোনো। তৃতীয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট থমাস জেফারসনের সময় (১৯ শতকের প্রথম দিকে) থেকে এটি চলে আসছে। ট্রাম্প নিজেও তার প্রথম মেয়াদে এই যন্ত্র ব্যবহার করেছেন।
তবে বাইডেনের বেশি বয়স এবং ক্ষমতায় থাকাকালীন অটোপেন ব্যবহারের জন্য তাকে নিয়ে উপহাস করে আসছেন ট্রাম্প। তিনি বাইডেনের অটোপেন ব্যবহার নিয়ে আগেও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছেন। এর আগে গত মার্চেও ট্রাম্প একই ধরনের অভিযোগ তুলে বাইডেনের ইস্যু করা ‘ক্ষমা’ বাতিল করার চেষ্টা করেছিলেন।
যদিও অটোপেন বাইডেনের সম্মতি ছাড়াই ব্যবহৃত হয়েছিল—এর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। বাইডেন নিজেও জুনে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিলেন, আমাকে স্পষ্ট করে বলতে দিন- আমার রাষ্ট্রপতির সময়ে আমিই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। অন্য কোনো পরামর্শ সম্পূর্ণ হাস্যকর এবং মিথ্যা।’

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক