শ্রীলঙ্কায় বন্যা-ভূমিধসে ৪০ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ২১
শ্রীলঙ্কায় টানা ভারি বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। পাশাপাশি এখনও ২১ জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি)। খবর এএফপির।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কেন্দ্রীয় পাহাড়ি চা-বাগানঘেরা জেলা বাদুল্লায়, যেখানে রাতের আঁধারে পাহাড় ধসে ঘরবাড়ি চাপা পড়ে ২১ জন নিহত হন। পার্শ্ববর্তী নুয়ারা এলিয়া জেলায় একইভাবে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি বিভিন্ন জেলার।
ডিএমসি জানিয়েছে, ভূমিধসে ৪২৫টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় এক হাজার ৮০০ পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় নিচু এলাকায় বসবাসকারীদের উচ্চভূমিতে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশটিতে বর্তমানে উত্তর–পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাব চললেও, সমুদ্রের পূর্ব দিকের নিম্নচাপের কারণে বর্ষণ আরও তীব্র হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দেশব্যাপী ফাইনাল ইয়ার স্কুল পরীক্ষা দুই দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সাংসদদের নিজ নির্বাচনী এলাকায় ফেরার সুযোগ দিতে পার্লামেন্টে বাজেট আলোচনাও স্থগিত করা হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সারা দেশে ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হতে পারে, আর উত্তর–পূর্বাঞ্চলে কোথাও ২৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বর্ষণ হতে পারে।
চলতি সপ্তাহের মৃত্যুসংখ্যা গত বছরের জুনের পর সবচেয়ে বেশি। তখন ভারি বৃষ্টিতে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গত ডিসেম্বরেও ভূমিধস–বন্যায় ১৭ জন প্রাণ হারায়। আর শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা ঘটে ২০০৩ সালের জুনে, যখন নিহত হন ২৫৪ জন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশটিতে বারবার ও আরও ভয়াবহ বন্যা ঘটার আশঙ্কা বাড়ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক