কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া শান্তি আলোচনা
ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে আবুধাবিতে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সচিব ড্যান ড্রিসকল আকস্মিকভাবে এই বৈঠকে অংশ নেন বলে একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) আরও বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খবর রয়টার্সের।
এদিকে শান্তি-পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যকার মতপার্থক্য কমাতে তীব্র আলোচনা চলছে। তবে কিয়েভ আশঙ্কা করছে—ওয়াশিংটন যেন রাশিয়ার শর্ত মানতে তাদের বাধ্য না করে।
বৈঠকের মধ্যেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাতজুড়ে মিসাইল ও শতাধিক ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। এতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়।
হামলার কারণে শীতের রাতে কিয়েভবাসীরা আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনে ও তাঁবুর নিচে আশ্রয় নেয়।
গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেন নীতি বারবার দোদুল্যমান হয়েছে। আগস্টে আলাস্কায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের জরুরি বৈঠক ইউরোপসহ ইউক্রেনে উদ্বেগ বাড়িয়েছিল যে, ওয়াশিংটন হয়তো রাশিয়ার অনেক দাবি মেনে নেবে। যদিও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর আরও চাপ বাড়ায়।
কিন্তু গত সপ্তাহে প্রকাশ পাওয়া ২৮ দফা শান্তি-প্রস্তাব আবারও কিয়েভ ও ইউরোপকে চমকে দেয়। অনেকেই আশঙ্কা করছে, এটি ইউক্রেনকে রাশিয়াপন্থি শর্ত মানতে বাধ্য করতে পারে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইউক্রেনকে আরও ভূখণ্ড ছাড়তে হবে, সেনাবাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ ও সীমাবদ্ধতা মানতে হবে। ন্যাটোতে যোগদানের পথ চিরতরে বন্ধ করতে হবে, যা কিয়েভ দীর্ঘদিন ধরে ‘আত্মসমর্পণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থায় আছেন। সম্প্রতি দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে দুই মন্ত্রী বরখাস্ত, পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার অগ্রগতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চাপ—সব মিলিয়ে কিয়েভের ওপর চাপ আরও বাড়ছে।
জেলেনস্কি জানান, জেনেভায় আলোচনার পর নতুন খসড়ায় ‘সঠিক কিছু পয়েন্ট’ যুক্ত হয়েছে, তবে সংবেদনশীল বিষয়গুলো তিনি সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বর্তমানে একমাত্র বাস্তবসম্মত উদ্যোগ হলো ট্রাম্পের প্রকল্প। এটি আলোচনার জন্য খুব ভালো ভিত্তি হতে পারে।
রাশিয়া এখনও আবুধাবি বৈঠক সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, আমরা শান্তি চাই, কিন্তু এমন শান্তি চাই না যা আত্মসমর্পণের সমান।
ম্যাক্রোঁ জোর দিয়ে বলেন, শুধু ইউক্রেনই সিদ্ধান্ত নেবে কোন ভূখণ্ড ছাড়তে পারে। ইউক্রেনের সেনাবাহিনী সীমিত করার প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য
রাশিয়ার বরফাচ্ছন্ন সম্পদ কীভাবে ব্যবহার হবে, সে সিদ্ধান্ত ইউরোপ নেবে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ নামে পরিচিত ইউক্রেন সমর্থক দেশগুলো মঙ্গলবার একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করবে।
এদিকে রোমানিয়া জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে তাদের আকাশসীমায় ইউক্রেন সীমান্তের কাছে সন্দেহজনক ড্রোন ঢোকার পর যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে।
সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ন্যাটো সদস্য দেশের আকাশসীমায় রুশ ড্রোন শনাক্ত হওয়ায় পূর্ব ইউরোপজুড়ে উত্তেজনা বাড়ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক