ট্রাম্পের ২৮ দফা পরিকল্পনা, ভূখণ্ড ছাড়তে হতে পারে ইউক্রেনকে
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধে ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে শান্তির বিনিময়ে কিয়েভকে তাদের পূর্বাঞ্চলীয় ভূখণ্ডের একটি বিশাল অংশ রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দেওয়া এবং সামরিক বাহিনীর আকার উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট করার মতো কঠোর শর্ত রয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির হাতে আসা এই খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ইউক্রেনকে তার সামরিক বাহিনীর আকার কমিয়ে ছয় লাখে নামিয়ে আনতে হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে ন্যাটো জোটে যোগ না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। বিনিময়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্ররা ভবিষ্যতে ইউক্রেনের ওপর যেকোনো হামলার জবাব দিতে ন্যাটো নীতির আদলে ‘নিরাপত্তা গ্যারান্টি’ দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে, যার অধীনে পার্শ্ববর্তী পোল্যান্ডে ইউরোপীয় যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হবে।
অন্যদিকে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাশিয়াকে জি-৮ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলোর তালিকায় ফিরিয়ে আনা হবে এবং তাদের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে।
পরিকল্পনার সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হলো ভূখণ্ড নিয়ে শর্ত। এতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনকে ডনবাসের যে অংশগুলো এখনও তার দখলে আছে, সেখান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে। লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক অঞ্চল এবং ২০১৪ সালে রাশিয়ার দখলকৃত ক্রিমিয়াকে ‘কার্যত রাশিয়ার অংশ’ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এই স্বীকৃতিকে সমর্থন জানানো হবে। এ ছাড়া রাশিয়ার দখল করা খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলগুলোর ক্ষেত্রে ‘সংঘর্ষ রেখা বরাবর’ পরিস্থিতি ‘স্থবির’ করা হবে।
এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ইউক্রেনকে ১০০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্প এর আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে ‘নির্বাচনবিহীন একনায়ক’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
এই বিষয়ে জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি পরবর্তীতে ট্রাম্পের সঙ্গে এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করবেন। তবে যেকোনো চুক্তি অবশ্যই ‘ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ শান্তি’ নিয়ে আসতে হবে।
এদিকে এই খসড়া পরিকল্পগুলো রাশিয়ার যোগসাজশে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইউক্রেন। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রক্রিয়ায় উভয় পক্ষের অংশগ্রহণ ছিল।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিভিট বলছেন, প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) এই পরিকল্পনা সমর্থন করেন। এটি রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ের জন্যই একটি ভালো পরিকল্পনা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি তদারকির জন্য ট্রাম্প নিজেই একটি ‘শান্তি পরিষদের’ সভাপতিত্ব করবেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক