পাকিস্তানের জয় হয়েছে : ইমরান খান
পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট নওয়াজ শরিফকে প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষণার পর পদত্যাগ করেছেন তিনি। আর সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে সন্তুষ্ট দেশটির বিরোধী দলগুলো।
রায়ের পরের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন পাকিস্তানের রাজনৈতিক দল তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রধান ও সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে পাকিস্তানের জন্য একটি নতুন যুগের শুরু বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।
টুইটারে বিবৃতি প্রকাশ করে ইমরান বলেন, পাকিস্তানের জয় হয়েছে আজ। টুইটে তিনি পাকিস্তানের জণগণকে অভিনন্দন জানান। এবং আইনের সঠিক প্রয়োগের জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
টুইটে ইমরান লেখেন, ‘আমার নওয়াজ শরিফের প্রতি কোনো অনুরাগ কিংবা বিরাগ নেই। তাঁর পরিবারকে আমি ৪০ বছর ধরে জানি। তিনি আমার কোনোকিছু ছিনিয়ে নেননি। তবে তিনি এই দেশের প্রতি অবিচার করেছেন, এই জাতির সঙ্গে অন্যায় করেছেন। আর সে জন্য আমি তাঁর বিচার চাই।’
ইমরান লেখেন, ‘ঐতিহাসিকভাবেই এই দেশে দুই ধরনের আইন চলে। এক আইন দুর্বল এবং গরিবের জন্য, অপর আইন ধনী ও ক্ষমতাবানের জন্য।’ ইমরান জানান, আটদিন জেলে থেকে তিনি দেখেছেন কীভাবে গরিবদের ক্ষুদ্র অপরাধে জেলে ঢোকানো হয় আর সবচেয়ে বড় চোররা রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকে।
এদিকে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন অনলাইন জানিয়েছে, নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে জয়ের কৃতিত্ব অনেকটাই ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফের। কারণ শরিফের বিরুদ্ধে পানামা পেপার্সে দুর্নীতির অভিযোগ আসার পর বিষয়টিকে আদালত পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন ইমরানই।
ইমরানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ, পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ ও জামায়াত-ই-ইসলামীর পেশ করা পিটিশনের ভিত্তিতেই গত বছরের অক্টোবরে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে মামলাটি চালু করা হয়।
আজ শুক্রবার দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দেন মুসলিম লীগ নওয়াজের (পিএমএল-এন) সরকারের প্রধান নওয়াজ শরিফ।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, আদালতের রায়ের বিষয়ে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও পদত্যাগ করেছেন নওয়াজ শরিফ।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্নীতির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের অযোগ্য ঘোষণার বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন নওয়াজ।
ওই বিবৃতিতে বলা হয়, শরিফ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কিন্তু এর পরও বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করেছেন।
এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে অযোগ্য ঘোষণা করে রায় দেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। রায়ে সর্বোচ্চ আদালত পাকিস্তানের দুর্নীতি দমন সংস্থা ন্যাশনাল অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি ব্যুরোকে (এনএবি) ছয় সপ্তাহের মধ্যে মামলার আসামি প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও তাঁর সন্তানদের বিরুদ্ধে একটি রেফারেন্স দায়েরের নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে ছয় মাসের মধ্যে বিচার শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া অর্থমন্ত্রী ইশাক দার এবং আইনপ্রণেতা ও প্রধানমন্ত্রী নওয়াজের জামাতা অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন সফদার আওয়ানের বিরুদ্ধেও রেফারেন্স দায়েরের নির্দেশ দেন আদালত।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে পানামা নথি-সংক্রান্ত মামলাটির শুনানি চলছিল সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে। সে বেঞ্চই শুক্রবার নওয়াজকে অযোগ্য ঘোষণার রায় দিল।
ওই বেঞ্চের পাঁচ সদস্য হলেন—বিচারপতি আসিফ সাঈদ খোসা, বিচারপতি এজাজ আফজাল খান, বিচারপতি গুলজার আহমেদ, বিচারপতি শেখ আজমত সাঈদ ও বিচারপতি ইজাজুল আহসান। রায় পড়ে শোনান বিচারপতি এজাজ আফজাল।
এর আগে পাকিস্তানের কোনো প্রধানমন্ত্রীই মেয়াদের নির্ধারিত পাঁচ বছর পূর্ণ করতে পারেননি। মুসলিম লীগ সরকারের প্রধান নওয়াজের ভাগ্যেও তা-ই জুটল।
সুপ্রিম কোর্টের এক নম্বর কক্ষে রায় ঘোষণা করা হয়। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার আবেদনকারী আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রধান শেখ রাশিদ ও জামায়াত-ই-ইসলামীর প্রধান শেখ সিরাজুল হক।
আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণাকালে সুপ্রিম কোর্ট ও আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা নেওয়া হয়। মোতায়েন করা হয় ইসলামাবাদ পুলিশ ও পাঞ্জাব রেঞ্জার্সের প্রায় তিন হাজার সদস্যকে।

অনলাইন ডেস্ক