যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে শুরু হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য
করোনাভাইরাস ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে লকডাউনের পর এবার কয়েকটি অঙ্গরাজ্য বিধিনিষেধ শিথিল করে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করছে। যুক্তরাষ্ট্রের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে অঙ্গরাজ্যগুলো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি আজ শনিবার এ খবর জানিয়েছে।
এর মধ্যে জর্জিয়া ও ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যে সেলুন ও ম্যাসাজথেরাপির প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় খোলা হচ্ছে। অন্যদিকে, আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে রেস্তোরাঁগুলোর ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সামাজিক দূরত্ব বা বিচ্ছিন্নকরণ বিধি মেনে ক্রেতারা দোকানপাটে যাবেন বলে আশা প্রকাশ করছে জর্জিয়া, ওকলাহোমা ও আলাস্কা কর্তৃপক্ষ। যদিও এসব অঙ্গরাজ্যের কিছু শহর ও এলাকা লকডাউনের আওতায় থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে লকডাউন শিথিল করার ব্যাপারে এগিয়ে রয়েছে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্য। সবার আগেই সেখানে ব্যবসা বাণিজ্য খোলার ব্যাপারে সময়সূচি ও নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়। বোলিং অ্যালি, স্যালুন ও ট্যাটু পার্লারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শুরুর দিকেই খোলার কথা রয়েছে। এ ছাড়া আগামী সোমবার রেস্তোরাঁ ও থিয়েটার খোলার অনুমতি দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন জর্জিয়ার গভর্নর ব্রায়ান কেম্প।
এর আগে বিষয়টি জানতে পেরে দ্বিমত পোষণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি চাই, তিনি (ব্রায়ান কেম্প) যা সঠিক মনে করছেন, তাই করবেন। কিন্তু আমি তাঁর সঙ্গে একমত নই।’ যদিও এর আগে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে লকডাউনবিরোধী বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়ে টুইট করেছিলেন ট্রাম্প।
এর আগে গত সপ্তাহে অর্থনীতি সচল করার বিষয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর জন্য একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। ওই নির্দেশিকায় বলা হয়, ব্যবসা-বাণিজ্য খুলে দেওয়ার আগে ১৪ দিন ধরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। তবে এও জানানো হয়, ওই নির্দেশিকা মানার বাধ্যবাধকতা নেই।
ওই নির্দেশিকা না মেনে জর্জিয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য খুলে দেওয়ার সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা আরেকটু অপেক্ষা করতে পারত, অল্প একটু, বেশি না। কারণ, আমাদের নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তাই আমি গভর্নরকে স্বাভাবিকভাবেই বলছি, আমি তাঁর সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নই। কিন্তু তিনি যা মনে করেন, তাই করতে পারবেন।’
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস-এর প্রধান ডা. অ্যান্থনি ফসি বলেছেন, ‘আমি যদি গভর্নরকে কোনো পরামর্শ দিতাম, তাহলে তাঁকে বলতাম, সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। আমি তাঁকে পরামর্শ দেব, সুইচ চালু করেই চলে যাবেন না। কারণ, এ বিপর্যয় ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।’
এদিকে, এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের করোনা টাস্কফোর্সের কর্মকর্তা ডা. ডেবোরাহ বার্কস বলেছিলেন, ‘আমরা সব অঙ্গরাজ্যের গভর্নরদের বলেছি, যেন নির্দেশিকাটি অনুসরণ করা হয়।’ তবে তাঁরা নিজস্ব নির্দেশিকা তৈরি করেও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বলে জানান তিনি।
লকডাউনের ফলে এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষ চাকরি হারাচ্ছে। আর এজন্য শুরু থেকে অঙ্গরাজ্যগুলোতে অস্থিরতা চলতে থাকে। অনেকেই লকডাউন শিথিল করার জন্য বিক্ষোভেও অংশ নেয়।
তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিধিনিষেধ এত দ্রুত শিথিল করা ঠিক হয়নি। এর ফলে আবারও করোনার সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে।

অনলাইন ডেস্ক