রোনালদোর পাশে দাঁড়ালেন রোমারিও
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও হোর্হে জেসুসের বিরোধ এখন পর্তুগিজ ফুটবলের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। আর ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোমারিও সেই বিতর্কে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।
ফুটবল মাঠের বাইরের উত্তেজনা যেন থামছে না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে। পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ হোর্হে জর্জ জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় এবার রোনালদোর পক্ষ নিয়েছেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ফুটবলার রোমারিও। তার মতে, কোচের আচরণে নিজেকে অসম্মানিত ও গুরুত্বহীন মনে করেছিলেন রোনালদো। আর সে কারণেই ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন পর্তুগিজ মহাতারকা।
সম্প্রতি ব্রাজিলের ‘চার্লা পডকাস্ট’-এ দেওয়া বক্তব্যে রোমারিও রোনালদোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। এমনকি নিজের জায়গায় রোনালদো থাকলে তিনিও একই সিদ্ধান্ত নিতেন বলে জানান। তবে ক্যাম্প ছাড়ার আগে কোচকে আরও কড়া জবাব দেওয়া উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী এই সাবেক স্ট্রাইকার।
রোমারিও বলেছেন, “হোর্হে জেসুস সবার সামনে রোনালদোকে অপমান করেছেন। রোনালদো নিজেকে অপমানিত ও গুরুত্বহীন মনে করেছেন, আর সে কারণেই তিনি চলে গেছেন। আমি যদি রোনালদোর জায়গায় থাকতাম, তাহলে আমিও একই কাজ করতাম। তবে চলে যাওয়ার আগে যিশুকে বলতাম, ‘জাহান্নামে যাও!’”
কী ঘটেছিল রোনালদো ও হোর্হে জেসুসের মধ্যে?
পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। রোনালদোর ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে তার খেলার সময় নিয়ে কোচের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছিল। পরে তাকে নরওয়ের বিপক্ষে প্রায় ৩০ মিনিট খেলানোর কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামানো হয়নি। অথচ তিনি ওয়ার্মআপও করেছিলেন।
রোনালদোর দাবি, ম্যাচের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল এবং সংবাদ সম্মেলনে কোচের পক্ষ থেকে বিষয়টি পরিষ্কার করার কথা ছিল। কিন্তু তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করা হয়নি। এতে নিজেকে প্রতারিত ও অসম্মানিত মনে করেন তিনি।
এরপর ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগে পর্তুগালের জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা। ঘটনাটি ঘিরে ফুটবলবিশ্বে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। রোনালদোর সিদ্ধান্ত নিয়ে যেমন সমালোচনা হয়েছে, তেমনি কোচের আচরণ নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
রোনালদোর পাশে রোমারিও
রোমারিও’র মতে, কোনো খেলোয়াড়কে যদি দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা না করা হয় এবং তার সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা হয়, তাহলে সেই পরিবেশে থাকার যৌক্তিকতা কমে যায়। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, রোনালদোর প্রতি অসম্মানজনক আচরণ করা হয়ে থাকলে ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্তকে তিনি অস্বাভাবিক মনে করেন না।
তবে রোনালদোর এই সিদ্ধান্তের পেছনের পরিস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে পুরো ঘটনার মূল্যায়নে রোনালদোর অভিযোগ ও কোচের বক্তব্য -- দুটিই বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
গত ৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেওয়া এক বিবৃতিতে রোনালদো নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এবং ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনায় নিজের দায়ও স্বীকার করেন। পাশাপাশি এটাও জানিয়েছেন ভবিষ্যতে পর্তুগালের হয়ে খেলার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করেননি তিনি। তবে এই ক্ষেত্রে দল ছাড়ার ঘটনায় কোচ জর্জ জেসুসকে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্য অভিযুক্ত করেন তিনি।

স্পোর্টস ডেস্ক