বাঁচা-মরার ম্যাচে মুখোমুখি চেক প্রজাতন্ত্র ও দ. আফ্রিকা
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভালো করতে পারেনি চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকা। হার দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে দুই দলই। এবার প্রথম জয়ের লক্ষ্যে মুখোমুখি হচ্ছে সেই দুই দল। পূর্ণ তিন পয়েন্ট আদায় করে নকআউট পর্বের দৌঁড়ে টিকে থাকার লক্ষ্য থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকা আর চেক প্রজাতন্ত্রের।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ‘এ’ গ্রুপে প্রথম ম্যাচে দুই দলই হারের স্বাদ পাওয়ায় এই ম্যাচটি উভয়ের জন্যই বাঁচা-মরার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
ডেনমার্ককে প্লে-অফে হারিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়া চেক প্রজাতন্ত্র প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে লিড নিয়েও তা ধরে রাখতে পারেনি। রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং টমাস সুচেকের গোল বাতিল হওয়ার খেসারত দিয়ে শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে হারতে হয় মিরোস্লাভ কৌবেকের দলকে। এই হারে টানা ৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার ধারা ভাঙে তাদের।
অন্যদিকে, ২০১০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে ফেরা দক্ষিণ আফ্রিকা মেক্সিকোর বিপক্ষে বল পজিশন হারানোর পাশাপাশি দুই ফুটবলার স্পেফেলো সিথোলে ও থেম্বা জোয়ানের লাল কার্ডের কারণে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। হুগো ব্রোসের দলের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সিথোলে ও জোয়ানের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এবং টানা ৬ ম্যাচের জয় খরা দূর করে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নতুন সমাধান খুঁজে নেওয়া।
চেক প্রজাতন্ত্রের কোচ মিরোস্লাভ কৌবেক এই ম্যাচে তার পরীক্ষিত ৩-৪-২-১ ফরমেশন ধরে রাখতে পারেন, যেখানে মাঝমাঠে আলেকজান্দ্রে সোজকা ও টমাস সুচেকের সাথে উইং-ব্যাকে থাকবেন জারোস্লাভ জেলেনি এবং ভ্লাদিমির সুফাল। আক্রমণভাগের মূল দায়িত্বে থাকবেন তারকা স্ট্রাইকার প্যাট্রিক শিক এবং ডিফেন্সে ডেড-বল স্পেশালিস্ট ক্রেচি নিজের জায়গা ধরে রাখবেন।
অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ ব্রোস দলে বড় পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন। পাঁচজনের ডিফেন্স ভেঙে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে যাওয়ার ভাবনায় এনকোসিনাথি সিবিসিকে বেঞ্চে বসিয়ে মিডফিল্ডে জাইডেন অ্যাডামসের সঙ্গী করা হতে পারে থালেন্টে মবাথাকে, এবং আক্রমণভাগে ইকরাম রেইনার্সের জায়গায় একক স্ট্রাইকার হিসেবে খেলতে পারেন লাইল ফস্টার।
এর আগে মাত্র একবারই দুই দলের দেখা হয়েছিল। ১৯৯৭ সালের কনফেডারেশন কাপে সেই দেখায় কোনো দলই অবশ্য জয় পায়নি। ২-২ গোলে সমতায় থেকেই ম্যাচ শেষ করেছিল তারা।
ম্যাচের আগে চেক কোচ কৌবেক প্রতিপক্ষের হাই-প্রেস ফুটবলের প্রশংসা করে কম্বিনেশন ও বল পজিশন ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন, অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বেলজিয়ান কোচ হুগো ব্রোস মেক্সিকো ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে চেকদের শারীরিক ফুটবল মোকাবিলার জন্য দলকে প্রস্তুত করার কথা জানিয়েছেন।

স্পোর্টস ডেস্ক