বিশ্বকাপ নিয়ে যে স্বপ্নের কথা বললেন ইয়ামাল
স্পেনের ফুটবল সেনসেশন লামিন ইয়ামাল। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলে নিজের জাত চিনিয়েছেন। পরিচিতি পেয়েছেন ‘ওয়ান্ডার বয়’ হিসেবে। ইতোমধ্যে রেকর্ড বইয়ের বড় একটা অধ্যায়ে নিজের নাম লিখে দিয়েছেন ইয়ামাল। জাতীয় দল থেকে ক্লাব ফুটবল– সব জায়গাতেই ‘বিস্ময় বালক’ ইয়ামাল।
১৮ বছর বয়সেই জাতীয় দলের হয়ে ইউরো এবং নেশনস লিগের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছেন ইয়ামাল। এবার তার চোখ ফুটবল বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিতে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের স্বপ্ন, চাপ সামলানোর উপায় এবং লিওনেল মেসি-ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো তারকাদের পাশে নিজের নাম লেখানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন বার্সেলোনার এই তরুণ উইঙ্গার।
মাত্র ১৭ বছর বয়সেই অভিষেক হয়েছে জাতীয় দলে। নিয়মিত খেলছেন তারকা বহুল বার্সেলোনা ফুটবল ক্লাবে। যেখানে প্রতিনিয়ত মোকাবিলা করতে হচ্ছে কঠিন সব প্রতিপক্ষকে। অথচ মাঠে তার খেলায় চাপের কোনো ছাপই থাকে না।
মাঠে এমন শান্ত থাকার রহস্য জানিয়ে ইয়ামাল বলেন, ‘ফুটবল এমন একটা জিনিস যা আমি ছোটবেলা থেকে খেলে আসছি। এটাই আমি সবচেয়ে ভালো জানি। তাই মাঠে আমি শুধু খেলাটা উপভোগ করার চেষ্টা করি। আর যখন গ্যালারিতে বাবা-মাকে দেখি, তখন সব চাপ উধাও হয়ে যায়।’
নিজের সেরা ফর্ম নিয়ে এই তরুণ তুর্কি বলেন, ‘যখন আমি সেরা ফর্মে থাকি, তখন নিজেকে সুপারহিরো মনে হয়। গতি, শক্তি আর অ্যাড্রেনালিন—সব যেন এক হয়ে যায়। মনে হয় কেউ আমাকে থামাতে পারবে না। আসন্ন বিশ্বকাপে আমি ঠিক এই স্তরে পৌঁছাতে চাই।’
ইউরো জেতার পর অনেকেই স্পেনকে বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ভাবছেন। তবে ইয়ামাল মাটিতেই পা রাখছেন, ‘মাঠে নামলে ফেভারিট তকমা কোনো কাজে আসে না। আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, পর্তুগাল বা ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলগুলো বিশ্বকাপে তাদের সেরা ফর্মে থাকবে। তবে আমাদের শক্তি হলো আমাদের একাডেমি এবং খেলার ধরন। আমার মতে, আমরাই সবচেয়ে সুন্দর ফুটবল খেলি।’
সমালোচকদের জবাব দিয়ে ইয়ামাল বলেন, “খুব কম বয়সে আলোয় আসলে অনেকেই সন্দেহ করে—আমি খুব ছোট, কিংবা আমি হয়তো ‘ওয়ান সিজন ওয়ান্ডার’ (এক মৌসুমের বিস্ময়)। আমার কাজ হলো প্রতি ম্যাচে পারফর্ম করে তাদের ধারণা ভুল প্রমাণ করা।”
প্রায়ই ইয়ামালকে তুলনা করা হয় ফুটবলের অনেক তারকা মহাতারকাদের সঙ্গে। অনেকেই বলেন, ইয়ামাল যেন নতুন মেসি। কেউ কেউ আবার তুলনা করেন রোনালদো কিংবা এমবাপ্পের মতো তারকাদের সঙ্গে। তবে এসব নিয়ে ইয়ামালের স্পষ্ট বক্তব্য– তিনি কারও সঙ্গে তুলনায় বিশ্বাসী নন।
ইয়ামাল বলেন, ‘আমার লক্ষ্য কারও সঙ্গে তুলনা হওয়া নয়, বরং তাদের পাশাপাশি আমার নামটা উচ্চারিত হওয়া। আমি নিজের একটা আলাদা পরিচয় তৈরি করতে চাই, যাতে অবসরের পরও মানুষ আমার খেলা মনে রাখে।’
ইয়ামাল জানালেন বিশ্বকাপে নতুন রেকর্ডের মালিক হতে চান তিনি। এই স্প্যানিশ তারকা বলেন, ‘ইউরোর পর থেকেই গাভি (জাতীয় দলের সতীর্থ) মজা করে বলছে, বিশ্বকাপে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ডটা আমি ওর কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারব না। তাই আমার লক্ষ্য আরও বড়, আমি বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা সর্বকনিষ্ঠ স্প্যানিশ খেলোয়াড় হতে চাই!’
বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে ইয়ামাল বলেন, ‘স্বপ্ন দেখি রেফারি শেষ বাঁশি বাজিয়েছেন এবং আমরাই চ্যাম্পিয়ন। এরপর স্পেনে ফিরে ট্রফি নিয়ে কোটি ভক্তদের সাথে উদযাপন করছি। এটা আমার জন্য একটা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো ব্যাপার হবে।’

স্পোর্টস ডেস্ক