ডোপ টেস্ট নিয়ে মুখ খুললেন স্বর্ণজয়ী মাবিয়া
ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ায় আন্তর্জাতিক ভারত্তোলন থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন মাবিয়া আক্তার। সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যান্টি ডোপিং অর্গানাইজেশনের রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটি তাকে নিষিদ্ধ করেছে। নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার পর রোববার (১২ এপ্রিল) গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন মাবিয়া। কথা বলেছেন নানা বিষয়ে। যেখানে ছিল তাকে ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেওয়া চিকিৎসকের ইস্যু।
মাবিয়ার কাছে এনটিভি অনলাইন জানতে চেয়েছিল, যে চিকিৎসক তাকে নিষিদ্ধ ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়েছেন, এটা নিয়ে চিকিৎসকের বিপক্ষে কোনো অবস্থান নেবেন কি না। মাবিয়া সরাসরি জানান, এখানে চিকিৎসকের দোষ নেই।
স্বর্ণজয়ী এই তারকা এনটিভি অনলাইনকে বলেন, “এখানে চিকিৎসকের আসলে দোষ নেই। আমি নিজেই তো সচেতন ছিলাম না, কোন ওষুধ খাওয়া যাবে, কোনটা যাবে না, সেই ব্যাপারে। তিনি (চিকিৎসকের) কীভাবে জানবেন। অ্যাসোসিয়েশন থেকেও আমাদের এই ব্যাপারে কোনো গাইডলাইন দেওয়া ছিল না। আর এই চিকিৎসককে এবারই প্রথম দেখাইনি। আগেও তার কাছ থেকে নিয়মিত চিকিৎসা নিয়েছি।”
মাবিয়া যোগ করেন, “তবে আমার যেটা ধরা পড়ছে সেটা ভারত্তোলনের জন্য খাওয়া নিষেধ। অতিরিক্ত পানি কমানোর জন্য ওই ওষুধ খাওয়া নিষেধ। এটা আমি ব্যক্তিগতভাবে জানতাম না। আমাদের ক্যাম্প চলাকালীন যে চিকিৎসকরা যান, তারা কোনোদিন ফিল্ডে এসে আমাদের পরীক্ষা করেন না, তারা আমাদের মেডিকেল ব্যাকগ্রান্ডডও জানেন না। আমার ওষুধের পুরো এক বছরের প্রেসক্রিপশন আমার কাছে আছে।”
ঘটনার সূত্রপাত গত বছর সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের সময়। গেমস শুরুর আগে ২৯ অক্টোবর ঢাকায় মাবিয়ার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ‘ফুরোসেমাইড’ ও ‘ক্যানরেনোন’ নামক নিষিদ্ধ দ্রব্যের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এই উপাদানগুলো সাধারণত শরীর থেকে দ্রুত পানি বের করে দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়, যা অ্যাথলেটদের জন্য নিষিদ্ধ।
নিষেধাজ্ঞার রায়ের বিরুদ্ধে ১৪ দিনের মধ্যে আপিল করা যাবে। মাবিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আপিল করবেন কি না? এই প্রসঙ্গে নিজের ভাবনার কথা জানান স্বর্ণজয়ী ভারত্তোলক।
মাবিয়া বলেন, “আপিলের জন্য অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আমার বসতে হবে। আপিলের ধারা কোন বিষয়ে, কোন প্রসেসে করতে হবে তার কিছুই জানি না। জানার পর আমার শাস্তির বিষয়ে যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে সেই প্রক্রিয়ায় আমি যাব না। আরেকটি ব্যাপার আছে, মেডিকেল কমিটি যারা আমাকে অবগত করেছে তাদের কাছে একটা আপিল করা আমাকে মাফ করার জন্য। এই একটি প্রক্রিয়া আমার জন্য খোলা আছে। অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সাথে আমার আলোচনার আগে কিছুই বলতে পারছি না।”

ক্রীড়া প্রতিবেদক