মশিউরসহ পাঁচ ব্রোকারেজের ৯৭ শতাংশ বিনিয়োগকারী অর্থ ফেরত পাবে
ডিফল্ট হয়ে যাওয়া পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউসের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইনভেস্টমেন্ট প্রোটেকশন ফান্ড (আইপিএফ)। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে এ অর্থ ফেরত কার্যক্রম শুরু হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর ৯৬ দশমিক ৬৯ শতাংশই তাদের পাওনা টাকার বড় অংশ বা সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিকুঞ্জে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নিজস্ব ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার এবং ডিএসইর বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলের (আইপিএফ) চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম। ডিফল্ট ব্রোকারেজ হাউজগুলো হলো—মশিউর সিকিউরিটিজ, তামহা সিকিউরিটিজ, বানকো সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ ও শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানি।
ডিফল্টার পাঁচ ব্রোকারেজ হাউসে ১৭ হাজার ৯২৫ জন বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জানিয়ে মমিনুল ইসলাম বলেন, এসব বিনিয়োগকারীর মধ্যে ব্রোকারেজ হাউস ও ইনভেস্টমেন্ট প্রোটেকশন ফান্ড ইতোমধ্যে ৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের অর্থ আইপিএফ থেকে পরিশোধ হবে জানিয়ে মমিনুল ইসলাম বলেন, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে এ অর্থ ফেরতের কার্যক্রম শুরু হবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হতে দুই মাস সময় লাগতে পারে। এই মুহুর্ত্বে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজার ৩৩২ জন বিনিয়োগকারী, যা মোট ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর ৯৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ, এ উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের অর্থ সম্পূর্ণভাবে ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবে। বাকি ৫৯৩ জন বিনিয়োগকারীর অর্থ পাওনা থাকবে। ৫৯৩ জনেও অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ ক্ষেত্রে ডিফল্টার ব্রোকারেজ হাউসগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি এবং পরিচালকদের ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে অর্থ আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আইপিএফে ভবিষ্যতে জমা হওয়া অর্থ থেকে এসব বিনিয়োগকারীর পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে। এ সময় তিনি বলেন, ডিফল্টার ব্রোকারেজ হাউসগুলোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ চলমান আছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক