জোড়াতালি দিয়ে বাজার টিকিয়ে রাখার নীতিতে কমিশন বিশ্বাসী নয় : ফারজানা লালারুখ
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ফারজানা লালারুখ বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিতে একটি সুপরিকল্পিত ও শক্তিশালী ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ’ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। জোড়াতালি দিয়ে বাজার টিকিয়ে রাখার নীতিতে এখনকার কমিশন বিশ্বাসী নয়। প্রতিটি পিলারকে মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে তবেই এই নতুন বাজারকে উন্মুক্ত করা হবে।
আজ রোববার (১০ মে) পল্টনে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) অডিটরিয়ামে ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ: সম্ভাবনা, কাঠামো ও ভবিষ্যৎ’-শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফারজানা লালারুখ বলেন, বিএসইসি এই সফল প্রজেক্ট বাস্তবায়নে সিএসইকে সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখবে। সিএসই যখনই তাদের পণ্যের রূপরেখা চূড়ান্ত করবে, কমিশন তখনই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
পুঁজিবাজারকে অনেক উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে, সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি কতটুকু তা নিয়ে পর্যালোচনা খুবই জরুরি উল্লেখ করে ফারজানা লালারুখ বলেন, দেশের পুঁজিবাজারের মূলত তিনটি প্রধান অংশ—ইকুইটি, বন্ড ও কমোডিটি। ইকুইটি মার্কেট বা সাধারণ পুঁজিবাজার এখন এক জায়গায় স্থবির হয়ে আছে। গত দুই বছর ধরে আইপিও প্রবাহে ধীরগতি। বন্ড মার্কেটে আশার আলো দেখালেও ডেরিভেটিভ তথা কমোডিটি মার্কেটকে পুরোপুরিভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি এখনও। এই শূন্যতা পূরণে সিএসইর সঙ্গে কাজ করছে কমিশন। এরই মধ্যে ২০২৫ সালে সিএসইর কমোডিটি ডেরিভেটিভ প্রবিধানমালা কমিশন মিটিংয়ের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছে। ইতোমধ্যে যাবতীয় আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল সিএসইর কারিগরি প্রস্তুতি ও সঠিক পণ্য নির্বাচনের অপেক্ষায় আছে বিএসইসি।
কমোডিটি এক্সচেঞ্জের দুটি বড় দিক হলো- পণ্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উল্লেখ করে ফারজানা লালারুখ বলেন, ইকুইটি মার্কেটের চেয়ে এর সেটেলমেন্ট বা নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই এই বাজার চালুর আগে বিএসইসি সতর্ক। বিশ্বের অন্যান্য দেশে মিউচুয়াল ফান্ড সফল হলেও আমাদের দেশে এই খাতটি সফলভাবে কাজ করতে পারছে না। কমোডিটি এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে যেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেজন্যই সময় নিয়ে সব ধরনের নিয়ম-নীতি ও স্টেকহোল্ডারদের প্রস্তুতি যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রস্তুতি ছাড়া কোনো কিছু চালু করলে পরবর্তীতে যদি সমস্যা তৈরি হয়, তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই তখন প্রশ্ন তুলবেন যে কেনো পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা ছাড়া এটি আনা হলো।
কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য কমোডিটি এক্সচেঞ্জের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চা, পাট এবং অন্যান্য কৃষি পণ্যকে এই ডেরিভেটিভ মার্কেটে অন্তর্ভুক্ত করা সবচেয়ে জরুরি। এতে সাধারণ কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন।
সিএমজেএফ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) যৌথ উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে সিএসইর চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সিএমজেএফ সভাপতি মনির হোসেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক