আপনার জিজ্ঞাসা
নামাজের সামনে দিয়ে যাওয়া যাবে কি?
নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
বিশেষ আপনার জিজ্ঞাসার ৪৮২ পর্বে একজন মুসল্লির নামাজরত অবস্থায় অন্য কেউ সামনে দিয়ে যেতে পারবে কি না, সে সম্পর্কে নরসিংদী থেকে টেলিফোনে জানতে চেয়েছেন শরীফ। অনুলিখনে ছিলেন জহুরা সুলতানা।
প্রশ্ন : নামাজ পড়ার সময় সামনে দিয়ে যাওয়া যাবে কি?
উত্তর : নামাজের সামনে দিয়ে যাওয়া হারাম। শুধু যেতে পারবে না তাই-ই না, যাওয়া হারাম। একজন মুসল্লি নামাজ পড়ছেন, এমন অবস্থায় কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর সামনে দিয়ে অতিক্রম করে যান তাহলে তিনি হারাম কাজ করলেন। এ বিষয়ে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যদি জানত মুসল্লির সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী ব্যক্তি, এতে কত বড় অপরাধ বা অন্যায় রয়েছে, তাহলে সে ৪০ বছর দাঁড়িয়ে থাকত।’ এতে বোঝা যায়, মুসল্লির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা হারাম।
কিন্তু মুসল্লির সামনে দিয়ে বলতে কী বোঝায়? মুসল্লির সেজদার যতটুকু জায়গা রয়েছে, ততটুকু জায়গা দিয়ে অতিক্রম করতে পারবে না। এটা হলো ইসলামের বিধান। আমরা আসলে না জানার কারণে জিনিসগুলোকে সীমা লঙ্ঘনে নিয়ে যাই এবং বাড়াবাড়ি করে ফেলি। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মুসল্লির সেজদাহ পর্যন্ত এতটুকু জায়গার অধিকার আছে।’ এর মধ্যে যদি কেউ প্রবেশ করে তাহলে মুসল্লির অধিকার আছে তাঁকে বাধা দেওয়ার।
কিন্তু সেজদার জায়গার বাইরে দিয়ে, সামনে দিয়ে চলে গেলে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। তা না হলে তো মসজিদে লোক নামাজ পড়লে সামনের কেউ বের হতে পারবে না। প্রয়োজনে তো মানুষকে বের হতে হবে।
মুসল্লির অধিকার হলো, তিনি যেখানে দাঁড়ালেন সেখান থেকে তাঁর সেজদার জায়গা পর্যন্ত। এর মাঝ দিয়ে কেউ যেতে পারবে না এটি বড় গুনাহর কাজ। কিন্তু সেজদার বাইরে, সামনে দিয়ে যেতে পারবে। কারণ এটি রাসুল (সা.) নিষেধ করেননি, নিষেধ করেছেন শুধু তাঁর সেজদাহর জায়গার ভেতর দিয়ে হাঁটা। এটা হাদিসে একদম স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। তাঁর সামনে, কিন্তু বহুদূরে না। বহুদূর দিয়ে কেউ অতিক্রম করতে পারে কারণ তা না হলে তো মসজিদে ঢুকলে আর কেউ বের হতে পারবে না। এ জন্য এটাকে কঠিন করার বিষয় না। এগুলো বোঝার বিষয় রয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক