আপনার জিজ্ঞাসা
রমজানে রহমত, মাগফিরাত, নাজাত কারা পাবেন?
নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
আপনার জিজ্ঞাসার ১৯১৯তম পর্বে রমজান মাসের রহমত, মাগফিরাত আর নাজাত কারা লাভ করতে পারবেন, সে সম্পর্কে চিঠিতে জানতে চেয়েছেন ফজল। অনুলিখনে ছিলেন জহুরা সুলতানা।
প্রশ্ন : মাহে রমজানের প্রথম ১০ দিন রহমতের, দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাতের আর শেষ ১০ দিন নাজাতের। এই রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত কারা পান?
উত্তর : রহমত, মাগফিরাত আর নাজাত পান ইমানদার ব্যক্তিরা, এটা তো জানা কথা। কিন্তু আপনি প্রথমে যে ভূমিকা দিয়েছেন, সেটা সম্পর্কে ঠিকভাবে জেনেছেন কী?
এ প্রসঙ্গে সালমান আল-ফারসি (রা.) বর্ণিত যে হাদিসটি নাসাঈ-এর আস সুনানুল কুবরার মধ্যে উল্লেখ করেছেন, সে হাদিসটি সনদের দিক থেকে গ্রহণযোগ্য নয়, মুনকার।
হাদিসটা শুদ্ধ নয়। কারণ, অসংখ্য সহিহ হাদিসের মধ্যে সাব্যস্ত হয়েছে,পুরো রমজান মাসই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর বান্দাদের জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করে দেন। আর পুরো মাসই আল্লাহর রহমতময়।
সহিহ বুখারি ও মুসলিমের হাদিসের মধ্যে আছে,‘যখন রমজান মাস আসে, তখন রহমতের সব দরজা খুলে দেওয়া হয়।’ তাহলে পুরো মাসই তো রহমতের। সুতরাং সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে, এটা মুনকার এবং সাজ হাদিস। মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। তাই এটার ওপর নির্ভর করে আপনি যে পরবর্তী প্রশ্ন করেছেন, এটা কার জন্য? সে প্রশ্ন ঠিক আছে। রহমত, মাগফিরাত, নাজাত শুধুই ইমানদার ব্যক্তির জন্য, এটা আল্লাহতায়ালার বিশেষ বরাদ্দ। এই বরাদ্দ যাঁরা ইমান আনেনি, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নফরমানি করেছে, তাদের জন্য রমজান মাসে নেই।
তাই রমজান মাসের সত্যিকার মেহমানদারি যাঁরা করতে পেরেছেন, রমজান মাসের হক যাঁরা আদায় করতে পেরেছেন, কেবল তাঁরাই এই রমজানের মর্যাদা ও ফজিলত লাভ করতে পারবেন।

অনলাইন ডেস্ক