শবেবরাতে বর্জনীয় বিষয়গুলো
শবেবরাতের রাতে প্রথম কোরআন নাজিল হয়েছিল বলে অনেকে বলে থাকেন। এটা সম্পূর্ণভাবে পবিত্র কোরআনের ও বিশুদ্ধতম হাদিসের বিরোধী। তাই এমন বিশ্বাস অবশ্যই বর্জনীয়। পবিত্র কোরআন সর্বপ্রথম নাজিল হয়েছিল রমজান মাসে এবং কদরের রাতে। সূরাতুল বাকারার ১৮৫ নম্বর আয়াত এবং সূরাতুল কদরে এবিষয়ে সুস্পষ্ট বিবরণ রয়েছে।
পটকা ফোটানো
আমাদের দেশে শবেবরাত এলে উঠতি বয়সের ছেলেরা পটকা ফোটানোর প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে। অপচয়, জনদুর্ভোগ, পরিবেশদূষণ ঈত্যাদি কারণে পঠকা ফুটানো সম্পূর্ণ হারাম। অপচয় সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন, নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। (সূরা আল-ইসরা : ২৭)
তা ছাড়া পটকার বিকট শব্দ মানুষের কষ্টের কারণ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর বারুদের কারণে পরিবেশ দূষিত হয়, যা জনস্বাস্থের জন্য হুমকিস্বরূপ। সুতরাং বাবা-মা ও অভিভাবকদের লক্ষ রাখতে হবে, যাতে এ পবিত্র রজনীতে তাঁদের সন্তানরা কোনো গর্হিত কাজে যুক্ত না হয়।
কবর ও মাজারে গিলাফ লাগান, বাতি জ্বালান
শবেবরাতকে কেন্দ্র করে কবরে, বিশেষ করে মাজারগুলোয় বিশেষ আয়োজন লক্ষ করা যায়। মাজারের পুরাতন গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ লাগানো হয়, আলোকসজ্জা করা হয়, মোমবাতি ও আগরবাতি জ্বালানো হয়। এসব কাজ শরিয়তবিরোধী, বিদআত এবং শিরক সমতুল্য।
গল্পগুজব করা
শবেবরাত উপলক্ষে মসজিদগুলোয় অনেক মানুষের সমাগম হয়। অনেক দিন পর শৈশবের বন্ধু, সহকর্মী, কলেজ-ইউনিভার্সিটির সহপাঠীর সঙ্গে সাক্ষাৎ! বেশ চুটিয়ে গল্প শুরু করে দিলাম। এমনটি করা যাবে না। কারণ, মসজিদে খোশ আলাপ করা হারাম।
দল বেঁধে সারা রাত ঘুরে বেড়ান
অনেকে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ান, চা স্টলে বসে আড্ডা মারেন, মসজিদে মসজিদে ঘুরে ঘুরে দুই রাকাত বা চার রাকাত করে নামাজ আদায় করেন। এতে মহিমান্বিত রাতের ফজিলতপূর্ণ সময় নষ্ট হয়। এটা নিছক বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়।
ফজরের নামাজ কাজা করা
অনেকে আছেন, যাঁরা শবেবরাতে সারা রাত নফল নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে যান, ফজরের নামাজ একেবারেই পড়েন না অথবা কাজা আদায় করেন। মনে রাখতে হবে যে, লাখ লাখ রাকাত নফল নামাজের চেয়ে এক রাকাত ফরজ নামাজের গুরুত্ব অনেক বেশি। সুতরাং ফরজ নামাজ বাদ দিয়ে যতই নফল নামাজ পড়া হোক না কেন, তাতে কোনো লাভ নেই। তাই ফরজকে ঠিক রেখে যতটুকু সম্ভব নফল আদায় করতে হবে, ফরজ বাদ দিয়ে নয়।
লেখক : পেশ ইমাম ও খতিব, রাজশাহী কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদ।

মোহাম্মদ মাকছুদ উল্লাহ