আপনার জিজ্ঞাসা
আবু হানিফা (রা.) কি এশার অজু দিয়ে ফজরের নামাজ পড়তেন?
নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ মতিউল ইসলাম।
বিশেষ আপনার জিজ্ঞাসার ৪৮৮তম পর্বে ইমাম আবু হানিফা (রা.) এশার নামাজের অজু দিয়ে ৪০ বছর ফজরের নামাজ পড়েছেন, এ তথ্য সঠিক কি না, সে সম্পর্কে রাজবাড়ী থেকে টেলিফোনে জানতে চেয়েছেন আবদুস সালাম। অনুলিখনে ছিলেন জহুরা সুলতানা।
প্রশ্ন : আমার প্রশ্ন হচ্ছে, ইমাম আবু হানিফা (রা.) এশার নামাজের অজু দিয়ে ফজরের নামাজ পড়েছেন ৪০ বছর। এটা থেকে আমরা কী শিক্ষা পাই? আর এটি কি সত্য?
উত্তর : এখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার মতো কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। একদিন তিনজন সাহাবা একত্র হয়ে আল্লাহর রাসূলের (সা.) আমল দেখে, তাঁদের মধ্যে একজন বললেন যে ‘আমি জিন্দেগিতে বিয়ে করব না’; আরেকজন বললেন যে ‘আমি জিন্দেগিতে কখনো ঘুমাব না’; আরেকজন বললেন যে ‘আমি স্ত্রী গ্রহণ করব না’।
রাসূল (সা.) তখন সাহাবাদের কাছে শুনে বললেন, ‘তোমরা কি এটা এটা বলছিলে?’ তাঁরা বললেন যে, ‘জি হ্যাঁ।’ রাসূল (সা.) বললেন, ‘খবরদার! আমি রাতের বেলা নামাজও আদায় করি, ঘুমও আসি।’ ‘আমি বিয়েও করেছি এবং আমার সন্তান আছে। আমি রোজা রাখি এবং রোজা ভাঙ্গিও।’ অর্থাৎ নবী (সা.) মধ্যমপন্থার কথা বলেছেন। ভক্তদের মধ্যে অনেকেই তাঁকে অনেক ওপরে তোলার জন্য, ইমাম আবু হানিফা এ ধরনের কাজ করেছেন, এই মর্মে বক্তব্য দিয়ে থাকেন।
কিন্তু এগুলোর কোনো দলিল নেই। ইমাম আবু হানিফাও কোথাও বলে যাননি যে তিনি এশার নামাজের অজু দিয়ে ফজরের নামাজ পড়েছেন। যাঁরা ভক্ত, তাঁরা অতিরঞ্জনমূলক এই ধরনের কথা বলেন। এখান থেকে আমাদের শিক্ষনীয় কিছু নেই। আমাদের বার্তা রাসূলের (সা.) জীবন থেকে। আমাদের রাতে ইবাদতও করতে হবে, ঘুমাতেও হবে। আমাদের শরীরের যে কাঠামো, সীমাবদ্ধতা, এটাকে মেনেই আমাদের চলতে হবে।
ইমাম আবু হানিফার (রা.) মতো এত বড় একজন ইমাম এ ধরনের সুন্নাহ পরিপন্থী কোনো কাজ করেছেন বলে আমার জানা নেই।

অনলাইন ডেস্ক