হলি ক্রসের ৭৫ বছর
তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন উদযাপিত
হলি ক্রস গার্লস হাই স্কুল বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যা দীর্ঘদিন ধরে নারী শিক্ষার প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাজে শিক্ষিত নারীদের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিদ্যালয়টি ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে সিস্টার আগষ্টিন মারী ও হলি ক্রস সংঘের নিবেদিত প্রাণ সিস্টারদের দ্বারা যাত্রা শুরু করেছিল। শিক্ষা, ঐতিহ্য ও গৌরবের সাথে যাত্রা শুরু করে এই বিদ্যালয়টি ৭৫ বছর বয়সে পৌঁছেছে। গত ১ জানুয়ারি ৭৫ বছরপূর্তি সম্পন্ন হয়।
শিক্ষা, মানবতা, মূল্যবোধ ও সেবার আদর্শে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠান তাদের গৌরবময় ৭৫ বছর পূর্তি (প্লাটিনাম জুবিলি) উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। যার ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) অনুষ্ঠানের প্রথম দিনের অধিবেশন সম্পন্ন হয়। আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠানটির দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল শনিবার (১০ জানুয়ারি) তৃতীয় দিনের উদযাপন সম্পন্ন হবে।
দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে স্কুলটির প্রাক্তন ছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক, বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আর অনুষ্ঠানটির মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে এনটিভি।
গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন শুরু হয়। এরপর হলি ক্রসের ইতিহাস-এর ম্যুরাল উদ্বোধন করা হয়।
এরপর বিদ্যালয় সংগীত, বিদ্যালয় প্রার্থনা, জুবলির প্রার্থনা, জুবলির বাতি প্রজ্জ্বলন, জাতীয় পতাকা ও বিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
এতে স্বাগত বক্তব্য দেন, হলি ক্রস স্কুলের হেড মিস্ট্রেস সিস্টার কল্পনা কস্তা। দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রদূত মহামান্য আর্চবিশপ কেভিন স্টুয়ার্ট রেনডল।
উক্ত অনুষ্ঠানে হলি ক্রসের কার্যক্রমের উপর একটি ডকুমেন্টারি প্রর্দশন করা হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান খন্দকার এহসানুল কবির।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফাদার জয়ন্ত এস গমেজ, সিস্টার তাপসি গমেজ, বিশপ সুব্রত বনিফাস গমেজ ও আর্চ বিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার।
দ্বিতীয় পর্বে বিকেল ৩টায় অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে ফুল ও ব্যাচ প্রদান করা হয়। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহিদ মিনার উদ্বোধন ও জুবলির প্রার্থনা করা হয়। বিকেলে আবার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা এবং জুবলির বাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। অনুষ্ঠোনে থিম সং-এর সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের খ্যাতনামা নৃত্যশিল্পী শিবলী মোহাম্মদ, শামীম আরা নিপা ও স্নাতা শেহরীন নৃত্য পরিবেশন করেন।
প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী আইরিন পারভীন এবং নৃত্যালেখ্য ও নৃত্যশিল্পী প্রিয়াংকা চেলের নির্দেশনা ও পরিচালনায় সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’ পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রোজালিন সারা গমেজ।

নিজস্ব প্রতিবেদক