গ্রাহকরা প্রথমদিনেই তুলেছেন ২৫০ কোটি টাকা
পাঁচ ব্যাংক নিয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ছয় হাজার গ্রাহকরা গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রথমদিনেই প্রায় ২৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। ব্যাংকটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছে।
চাহিদার তুলনায় অর্থ কম তুলেছেন জানিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তারা বলেন, ব্যাংকটির গ্রাহকরা টাকা উত্তোলনের জন্য যতটা অধীর আগ্রহে ছিলেন, সেই তুলনায় প্রথমদিনে অর্থ উত্তোলনের সংখ্যা কমই ছিল। একীভূত পাঁচ ব্যাংকের মোট শাখা রয়েছে ৭৬১টি। টাকা ফেরত পেতে পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের কাছ থেকে ৭৪ হাজার ২২১টি আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদনের বিপরীতে অর্থের দাবি রয়েছে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা।
টাকা উত্তোলন প্রসঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, আবেদন করা গ্রাহকদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেক গ্রাহক ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমানত চালু রাখার কথা জানিয়েছেন। টাকা নেওয়ার প্রথমদিনে অনেকেই ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখায় এসেছেন, তবে সবাই টাকা নিতে আসেননি। অনেকেই দেখতে এসেছে। অনেকে টাকা তুলেছেন, কেউ কেউ আমানতের পুরো টাকা তুলেছে। কেউ কেউ টাকা তুলে পরে তা ব্যাংকে আবার জমা করেছেন।
নগদ অর্থের সংকট নেই, চাহিদামতো টাকা উত্তোলন করতে পারবেন গ্রাহকরা জানিয়ে রহমান সিকদার বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতের টাকা তোলার আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। আবেদন গ্রহণ চলমান রয়েছে। অপরদিক গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের জমে থাকা আমানত ফেরত দেওয়াসহ ব্যাংকটির তারল্য সংকট মোকাবিলায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে পাঁচ হাজার কোটি টাকা বিশেষ ধার বা ঋণ দিয়েছে।
প্রত্যাশার চেয়ে খুবই কম টাকা তোলার আবেদন পড়েছে জানিয়ে এক্সিম ব্যাংক কারওয়ান বাজার শাখার ব্যবস্থাপক মো. আমির হোসেন বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর যারা (আমানতকারী) টাকা তোলার আবেদন করেছিল, সোমবার মাত্র একজন টাকা তুলছেন। চাহিদামতো টাকা তুলেছেন তিনি।
গ্রাহকদের মিষ্টি খাওয়ায়ে ও ফুল দিয়ে বরণ করেছেন জানিয়ে আমির হোসেন বলেন, গতকাল অনেক গ্রাহক এসেছেন। একজনই কেবল টাকা তুলেছেন। বাকী গ্রাহক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নানা দিক নিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। আমানতকারীদের নিয়ে একীভূত এই ব্যাংকটির পরিকল্পনা শুনেছেন। এ সময় ব্যাংকটির প্রতি আস্থা তৈরি হওয়ার কারণে তারা টাকা না তুলেই চলে গেছেন।
উল্লেখ্য, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত হয় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। এর পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা।

নিজস্ব প্রতিবেদক