শীর্ষ ২০ খেলাপির থেকে আদায় ৭৪৫ কোটি টাকা
আর্থিক স্বাস্থ্যের সব ধরনের সূচকে অতীতের চেয়ে ভালো অবস্থানে আসায় চলতি বছর শেষে সোনালী ব্যাংকের প্রভিশন ও মূলধন ঘাটতি মুক্ত হবে এমনটিই জানালেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান। তিনি বলেন, শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির কাছ থেকে গত বছরে ৭৪৫ কোটি টাকা আদায় করেছে সোনালী ব্যাংক। এর মধ্যে হলমার্ক গ্রুপ থেকে আদায় ৩০০ কোটি টাকা।
আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) মতিঝিলে ব্যাংকটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে সংবাদ সম্মেলনে শওকত আলী খান এসব কথা বলেন।
সংস্কার, ঋণ আদায়সহ নানা উদ্যোগে সোনালী ব্যাংকের আর্থিক কাঠামো আগের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শওকত আলী খান বলেন, সোনালী ব্যাংকের প্রতি জনগণের আস্থা অনেক বেশি। এই আস্থার কারণেই তারা বেশি আমানত রাখে।
হলমার্ক কেলেঙ্কারির পর থেকে সোনালী ব্যাংকে সে ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি মন্তব্য করে শওকত আলী খান বলেন, সোনালী ব্যাংক এখন ঋণ গ্রহীতা ঠিক করতে অনেক সচেতন। আমানতকারীরা আমাদের জন্য আশীর্বাদ।
গত বছরে খেলাপীদের কাছ থেকে নগদ আদায় করা হয় এক হাজার ২০৩ কোটি টাকা জানিয়ে শওকত আলী বলেন, আমরা ঋণ গ্রহীতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। অর্থ আদায়ে আইনিসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছ থেকে গত বছরে ৭৪৫ কোটি টাকা আদায় করতে পেরেছে সোনালী ব্যাংক। এরমধ্যে হলমার্ক গ্রুপ থেকে আদায় ৩০০ কোটি টাকা। বাকি অর্থ আদায়ে হলমার্ক গ্রুপের মেশিনারিজ ও সম্পদ নিলামের মাধ্যমে বিক্রির চেষ্টা চলছে। আগের বছরের চেয়ে সোনালী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা ৪১ শতাংশ বেড়ে হয় আট হাজার ১৭ কোটি টাকা। নিরীক্ষা শেষে নিট মুনাফা এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ৭০০ কোটি টাকা হতে পারে।
বর্তমানে ব্যাংকটিতে খেলাপীর হার ১৮ শতাংশ। গত ডিসেম্বর শেষে তা ১৬ শতাংশের নিচে নেমেছিল জানিয়ে শওকত আলী বলেন, আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে খেলাপী ঋণের হার এক অঙ্কে অর্থ্যাৎ ৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে পরিকল্পনা নিয়েছি। গত সেপ্টম্বর পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের ঋণ স্থিতি রয়েছে এক লাখ চার হাজার ৭২৩ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আমাতের স্থিতি হয় এক লাখ ৭৯ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা।

নিজস্ব প্রতিবেদক