ই-রিটার্ন দাখিল ৩০ লাখের বেশি করদাতার
গত পাঁচ মাসে ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন ৩০ লাখের বেশি করদাতা। এসময় প্রায় ৪৫ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন রেজিস্ট্রেশন করেছেন। ইতোমধ্যে রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ এ তথ্য জানিয়েছেন।
আল আমিন শেখ জানান, এনবিআরের এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এবার ২০২৫-২৬ কর বছরে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ছাড়া সব ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
গত ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ কর্তৃক ২০২৫-২৬ কর বছরের জন্য www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম শুভ উদ্বোধন করেন। এ পর্যন্ত ৪৫ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এসময় ৩০ লাখের বেশি করদাতা ২০২৫-২৬ কর বছরের ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। যাদের জন্য ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়নি তাঁরাও অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করছেন।
গত আগস্টে ২ লাখ ৫১ হাজার ৭৮৪ জন, সেপ্টেম্বরে ৩ লাখ ১ হাজার ৩০২ জন, অক্টোবরে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৭৬ জন, নভেম্বরে ১০ লাখ ৪০ হাজার ৪৭২ জন এবং ডিসেম্বরে ১০ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। গত বছর একই সময়ে ১০ লাখ ২ হাজার ২৯৮ জন করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছিলেন। করদাতাদের সুবিধার জন্য সরকার ইতোমধ্যে রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। ওই সময়ের মধ্যে ৪০ লাখের বেশি করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করবেন বলে আশাবাদী এনবিআর।
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাদের ক্ষেত্রে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক না হলেও পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর, ই-মেইল এড্রেস ইত্যাদি তথ্য ereturn@etaxnbr.gov.bd ই-মেইলে প্রেরণ করে আবেদন করলে আবেদনকারীর ই-মেইলে OTP এবং Registration Link প্রেরণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতারাও ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করে সহজেই অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। তাছাড়া করদাতার পক্ষে তাদের ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিরাও এ বছর অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
কোনরূপ কাগজপত্র বা দলিলাদি আপলোড না করে করদাতারা তাদের আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের প্রকৃত তথ্য ই-রিটার্ন সিস্টেমে এন্ট্রি করে সহজে ঝামেলাহীনভাবে ঘরে বসেই ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং অথবা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) এর মাধ্যমে অনলাইনে আয়কর পরিশোধ করে ই-রিটার্ন দাখিল করে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-রিটার্ণ দাখিলের একনলেজমেন্ট শ্লিপ এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কর সনদ প্রিন্ট নিতে পারছেন। দাখিলকৃত রিটার্নে কোনো ভুল হলে রিটার্ন দাখিলের ১৮০ দিনের মধ্যে ই-রিটার্ন সিস্টেম থেকেই সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করা যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে ২০২৫-২৬ কর বছরের সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করেছেন।
ই-রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া সহজবোধ্য করার জন্য এনবিআর করদাতা এবং করদাতার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি তথা আয়কর আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস, কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস এবং চার্টার্ড সেক্রেটারিজকে ও ই-রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়ার ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে।
ই-রিটার্ন সংক্রান্ত যেকোন সমস্যায় করদাতাদের সহায়তা প্রদানের জন্য এনবিআর কর্তৃক স্থাপিত কল সেন্টারের ০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১ নম্বরে ফোন করে করদাতা ই-রিটার্ন সংক্রান্ত প্রশ্নের তাৎক্ষণিক টেলিফোনিক সমাধান পাচ্ছেন। এছাড়া www.etaxnbr.gov.bd এর eTax Service অপশন হতে করদাতারা ই-রিটার্ন সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা লিখিতভাবে জানালে তার সমাধান পাচ্ছেন। অধিকন্তু, সারাদেশের সব কর অঞ্চলে স্থাপিত ই-রিটার্ন হেল্প-ডেস্ক হতে অফিস চলাকালীন সময়ে ই-রিটার্ন দাখিল বিষয়ক সব সেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক