ছেঁড়া-ত্রুটিপূর্ণ নোট না নিলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
কেউই নিতে চান না ছেঁড়া, ফাটা বা ত্রুটিপূর্ণ টাকার নোট। ব্যাংকও এসব টাকার নোট নিতে অনীহা জানায়। এমন বিড়ম্বনা থেকে গ্রাহকদের মুক্তি দিতে ছেঁড়া, পোড়া বা বিভিন্ন কারণে নষ্ট হওয়া নোটের বিনিময় মূল্য ফেরত দেওয়ার বিষয়ে নতুন নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে যেসব ব্যাংক ছেঁড়া-ফাটা নোট নিতে অনীহা জানাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন এই নীতিমালার আওতায় এখন থেকে গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে নষ্ট হওয়া নোটের বিপরীতে নির্ধারিত হারে অর্থ ফেরত পাবেন। গত ১৫ ডিসেম্বর একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলারে জানানো হয়, এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো নোটের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ বিদ্যমান থাকলেও সম মূল্যমানের অর্থ ফেরত পাবেন গ্রাহক। নতুন এ সার্কুলারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক নোট প্রত্যর্পণ প্রবিধান ২০২৫ কার্যকর করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাতিল করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক নোট রিফান্ড রেগুলেশনস ২০১২। এছাড়া নোটের কত অংশ থাকলে কত টাকা পাওয়া যাবে, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে এই সার্কুলার।
সার্কুলার মতে, কোনো নোট দুই খণ্ডে বিভক্ত হলে খণ্ড দুটি সন্দেহাতীতভাবে একই নোটের অংশ হতে হবে। এক্ষেত্রে জমা গ্রহণের সময় নোটের বিচ্ছিন্ন খণ্ড দুটির উল্টো পিঠে সরু আকারের হালকা সাদা কাগজ দিয়ে জোড়া লাগাতে হবে। যাতে আসল নোট শনাক্তে কোনো অসুবিধা না হয়। একইভাবে যেসব জীর্ণ নোট পরীক্ষার সময় নাড়াচাড়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে, সেগুলোর উল্টো পিঠেও হালকা সাদা কাগজ সংযুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত, নষ্ট বা পুড়ে যাওয়া প্রচলিত নোট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা অফিসসহ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকেও বদল করে নেওয়া যায়। প্রতিটি ব্যাংক শাখায় ছেঁড়া নোট বদলের সুযোগ থাকলেও সব নোটের পুরোমূল্য পাওয়া যায় না। কেবল যেসব নোটের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ অক্ষত রয়েছে, সেগুলোর বিপরীতে সম্পূর্ণ মূল্য ফেরত দেওয়া হবে। এসব ক্ষেত্রে নোট সাধারণত তাৎক্ষণিকভাবেই বদল করে দেওয়া হচ্ছে। অন্য ছেঁড়া-ফাটা নোটও নিয়ম অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে বদল করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত নোটের বিনিময় মূল্য পেতে কোনো ব্যাংক শাখায় সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন গ্রাহক। ব্যাংক শাখা বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হলে আবেদনটি প্রধান কার্যালয়ে পাঠাতে হবে। সেখান থেকেও সমাধান না হলে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো হবে। এক্ষেত্রে আবেদনপত্র প্রাপ্তির আট সপ্তাহের মধ্যে নোটটির মূল্য প্রদানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূল্য প্রদেয় হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হিসাবে অর্থ সমন্বয় করা হবে।
সুষ্ঠু নগদ লেনদেন নিশ্চিত করতে ব্যাংকের বিধি মোতাবেক ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোটের বিনিময় মূল্য প্রদান এবং দাবিযোগ্য নোটসংক্রান্ত সেবা নিয়মিতভাবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ধরনের সেবা প্রদানে কোনো ব্যাংক শাখা অনীহা দেখালে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে সার্কুলারে। এ সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের পুরো সার্কুলারটি দেখুন—

নিজস্ব প্রতিবেদক