মহারাষ্ট্রে ৬ মাসে ১৩০০ কৃষকের আত্মহত্যা
ভারতের মহারাষ্ট্রের কৃষকদের জীবন থেকে অন্ধকার যেন সরছে না। ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছেন তাঁরা। এই রাজ্যে গত ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) এক হাজার ৩০০ কৃষক আত্মহত্যা করেছেন।
মহারাষ্ট্রের রাজ্য রাজস্ব বিভাগের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে এই রাজ্যে এক হাজার ৯৮১ কৃষক আত্মহত্যা করেছিলেন। এই সংখ্যার ৬০ শতাংশ চলতি বছরের গত ছয় মাসে স্পর্শ করেছে।
২০১৩ সালের ১২ মাসে এই মৃত্যুর সংখ্যা ছিল এক হাজার ২৩৬ জন।
পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, ২০১৫ সালে এই রাজ্যে কৃষক মৃত্যুর সংখ্যা ২০১৪ সালের চেয়ে বাড়বে।
সমালোচকরা বলছেন, রাজ্য রাজস্ব বিভাগ কৃষকদের প্রকৃত মৃত্যুসংখ্যা সঠিকভাবে তুলে ধরেনি। দেশের জাতীয় অপরাধ সমীক্ষা ব্যুরোর তথ্য (এনসিআরবি) অনুযায়ী এর সংখ্যা সব সময়ই বেশি থাকে। ভারতের মধ্যে মহারাষ্ট্রেই কৃষক মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি বলে এনসিআরবির তথ্যে তুলে ধরা হয়।
মহারাষ্ট্রের বেশির ভাগ দরিদ্র, ভূমিহীন কৃষক ঋণের দায়ে মর্মপীড়ায় ভুগতে ভুগতে একসময় আত্মহত্যা করেন। সরকার দাবি করছে, মাত্রাতিরিক্ত হতাশায় ভোগার কারণে এই অপমৃত্যু ঘটছে।
রাজ্যের মোট আত্মঘাতী কৃষকের ৫৫ শতাংশ পরিবারকে এ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ সহায়তা করা হয়েছে বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে।
রাজ্যের বিরোধী দল কৃষকদের ঋণ মওকুফের দাবি করে আসছে। আজ সোমবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় এ বিষয়ে বিশেষ কোনো বিবৃতি দিতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। রাজ্য সরকার দাবি করছে, তারা কৃষকের আত্মহত্যা ঠেকানোর বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে।
গত বছর খরার কারণে কৃষকদের আত্মহত্যা বেড়ে গিয়েছিল বলে দাবি করে রাজ্য সরকার। আর চলতি বছর অসময়ে বৃষ্টির কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হলে পরিস্থিতি আরো মারাত্মক আকার ধারণ করে।
এর আগে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) ৬০১ জন কৃষক আত্মহত্যা করেন। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি হয়েছে তুলা উৎপাদিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত বিদর্ভ এলাকায়। ওই এলাকায় জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৩১৯ কৃষক আত্মহত্যা করেন। এ হিসাবে ২১৫টি আত্মহননের ঘটনা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল মারাঠাওরা নামে অধিক শুষ্ক অঞ্চলটি। রাজ্যের এ দুই অঞ্চলে খরা ও অসময়ে বৃষ্টির কারণে ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বিদর্ভ অঞ্চলে ৬৭১টি আত্মহননের ঘটনা ঘটেছে। আর মারাঠাওরায় এ সময়ে ৪৩৮টি ঘটনা ঘটেছে।
কৃষকের আত্মহননের ঘটনা বাড়তে থাকা প্রসঙ্গে রাজ্যের রাজস্বমন্ত্রী একনাথ খাদছে বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কৃষককে রক্ষা করতে আমরা জলাধার অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিভিন্ন প্রকল্প এরই মধ্যে বাস্তবায়ন করেছি। ফলে সামনের দিনে কৃষকের আত্মহননের ঘটনা কমবে বলে আশা করছি।’
ঋণ মওকুফের বিষয়ে খাদছে বলেন, ‘এর আগেও ঋণ মওকুফ করা হয়েছে, তবে কৃষকের আত্মহননের ঘটনা তো কমেনি। আমরা চাইছি, দুগ্ধ ও পোলট্রি খামারে কৃষকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে।’

অর্থনীতি ডেস্ক