শিল্প না হলেও জমি বিক্রিতে জোর নয় : পশ্চিমবঙ্গ সরকার
কোথাও কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে না উঠলেও কোনো জমি বেচতে কাউকে জোরজবরদস্তি সমর্থন করবে না পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শিল্পপতিদের উদ্দেশে এ কথা জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব সঞ্জয় মিত্র। গতকাল শুক্রবার ‘পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এ কথা বলেন তিনি।
শিল্পপতিদের উদ্দেশ্যে সঞ্জয় মিত্র বলেন, ‘আপনাদের ইচ্ছুক জমিদাতাকেই খুঁজে বের করতে হবে। কাউকে জোর করা যাবে না। তাতে যদি শিল্প না আসে, না আসবে।’
ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, যদি কেউ জমি বেচতে না চায়, তাহলে তাকে সরিয়ে দেওয়া যাবে না বলে সঞ্জয় মিত্র ওই কর্মশালায় জানান।
এর আগে গত বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এক শতাংশ জমিও যদি জোর করে অধিগ্রহণ করা হয়, তাতে আমাদের সরকার সমর্থন করবে না। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, ১০০তম প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, শিল্পের জন্য এক ছটাক জমিও নেবে না রাজ্য। শিল্পপতিদেরই ‘আদর করে’ তা জোগাড় করতে হবে।
সেই অবস্থান থেকে আরো এক ধাপ এগিয়ে সঞ্জয় মিত্র বলেন, ‘খাসজমি থেকেও জবরদখলকারীদের উচ্ছেদ করা হবে না। বরং তাঁদের স্বীকৃতি দিয়ে পুনর্বাসনের বিষয়টিতেই অগ্রাধিকার দেবে সরকার।’
রাজ্যের মুখ্যসচিব শিল্পপতি ও উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদেরই ইচ্ছুক জমিদাতা খুঁজে বের করতে হবে। অনিচ্ছুকদের কাছ থেকে জমি নিতে জোর খাটাতে হয়। আমরা বল প্রয়োগের বিরোধী। কাউকে জোর করতে পারব না।
তাতে যদি শিল্প না আসে, না আসবে।’ এনটিসি, কোল ইন্ডিয়ার মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকেও এই নীতি মেনে জমি দেওয়া হয়েছে বলে সঞ্জয় মিত্র দাবি করেন।
‘রাজ্যে সহজে ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরি’ শিরোনামের বিষয়ের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে সঞ্জয় মিত্র এ ধরনের কথা বলাতে শিল্পমহল অনেকটাই হতাশ হয়েছেন।
কর্মশালায় উপস্থিত সেঞ্চুরি প্লাইয়ের সজ্জন ভজনকা বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানের সিমেন্ট গ্রাইন্ডিং ইউনিট করার জন্য শিলিগুড়িতে ৫০ একর জমি দরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁরা ২০-২২ একর জমি অধিগ্রহণ করতে পেরেছেন।
শিল্পপতিদের বক্তব্য, একেই অজস্র জমির মালিকদের সঙ্গে কথা বলা ও বিস্তর দর কষাকষি করে জমি নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে। তার ওপর এখন খাসজমি পেতেও যদি জবরদখলকারীর পুনর্বাসনের অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়, তবে পশ্চিমবঙ্গে কেন শিল্পপতিরা ব্যবসা করতে আসবেন?
শিল্পপতিরা প্রশ্ন করেন, সুবিধা পাওয়ার আশায় খাসজমিতে যদি জবরদখলকারীদের ভিড় জমে, তাহলে রাজ্য সেই সমস্যা সামাল দিতে পারবে কি?
এ ধরনের প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে সঞ্জয় মিত্র পাল্টা প্রশ্ন করেন, কোথাও জবরদখল আছে কি না, তা শিল্পপতিরা জানবেন কীভাবে? তিনি বলেন, ‘খাসজমিতে কেউ থাকলে তাকে জবরদখলকারী বলতে রাজ্য নারাজ। খাসজমিতে কেউ থাকলে, আগে দেখতে হবে তাঁর আইনি স্বীকৃতি আছে কি না। জবরদখলকারী থাকলে, ‘কেস-টু-কেস’ ভিত্তিতে স্বীকৃতি দেবে রাজ্য।’
শিল্পপতিরা বলেন, শিল্পের অন্যতম প্রাথমিক শর্তই হচ্ছে জমি। জমি ছাড়া শিল্প হবে না।

অর্থনীতি ডেস্ক