দেবীগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ পান করে অসুস্থ ২৮ শিক্ষার্থী
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা দুধ পান করে ২৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। মাথা ঘোরা, পেটব্যথা ও খিচুনিসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে তাদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, দুপুরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুধ বিতরণের সময় রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের ‘আরডি’ ব্র্যান্ডের কয়েকটি প্যাকেট দুধে ফুটো দেখতে পান তারা। এ ছাড়া কিছু প্যাকেটের দুধ দইয়ের মতো জমাট অবস্থায় দেখা যায়।
বিষয়টি প্রধান শিক্ষকসহ স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনকে জানানো হয়। খবর পেয়ে তিনি বিদ্যালয়ে এসে নিজে দুধ পান করে পরীক্ষা করেন এবং দুধে কোনো সমস্যা নেই বলে শিক্ষার্থীদের তা পান করতে বলেন—এমন দাবি করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আরও জানান, দুধ পান করার প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের পেটব্যথা, খিচুনি ও মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে রাত ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই বিদ্যালয়ের ২৮ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মনির হোসেন বলে, ‘দুধ খাওয়ার পর থেকে আমার মাথা ঘোরা ও পেটব্যথা শুরু হয়। আমি দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। পরে আমাকে হাসপাতালে আনা হয়।’
বিদ্যালয়ের শিক্ষক তসলিমা খাতুন বলেন, ‘দুধ বিতরণের সময়ই আমরা কয়েকটি প্যাকেটে ফুটো এবং দইয়ের মতো অবস্থা দেখতে পাই। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানিয়ে দুধ বিতরণ না করার জন্য বলি। তবে স্কুল ফিডিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন এসে নিজে দুধ খেয়ে সবাইকে খেতে বলেন। এর পরই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে থাকে। পরে আমরা তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসি।’
দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বিমন দেবনাথ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ২৮ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আমরা তাদের চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। সবাই মোটামুটি ভালো আছে। এর পরও যদি কেউ সমস্যা অনুভব করে তাহলে দ্রুত যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।’
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমি হাসপাতালে গিয়েছি এবং তাদের গুরুত্বের সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দুধ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। কারও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেছেন, ‘ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই ভালো অনুভব করছে, আমরা পর্যবেক্ষণে রাখব, রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। অসুস্থ হওয়া বাচ্চারা এখান থেকে যেন ভালোভাবে যেতে পারে সে আশা করছি।’
শিক্ষার্থীরা ঠিক কী কারণে অসুস্থ হয়েছে, তা দুধ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।

হাসান রায়হান, পঞ্চগড় (দেবীগঞ্জ)