নওগাঁয় অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ
নওগাঁয় বাসচালক ও সুপারভাইজারকে মারধরের প্রতিবাদে অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছেন পরিবহণ শ্রমিকরা।
আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে রাজশাহী, জয়পুরহাট, বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটের বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ এই ধর্মঘটের কারণে চরম বিপাকে সাধারণ যাত্রীরা।
গতকা শনিবার বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ও বাস শ্রমিকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে জেলার পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ডে বাসচালক রুবেল হোসেন ও এক সুপারভাইজারকে অতর্কিত মারধর করে অটোরিকশাচালকরা। গুরুতর আহত অবস্থায় চালক রুবেল হোসেনকে প্রথমে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনার বিচার ও মহাসড়কে অবৈধ অটোরিকশার দৌরাত্ম্য বন্ধের দাবিতে সকাল থেকে ধর্মঘটের ডাক দেয় শ্রমিক ইউনিয়ন।
বাস মালিক ও শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অটোরিকশা শহরের বাইরে দূরপাল্লার রুটে যাত্রী পরিবহণ করতে পারবে না। কিন্তু এই নিয়ম অমান্য করে আঞ্চলিক মহাসড়কেও অবাধে এসব অবৈধ বাহন চলাচল করায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ও শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।
এদিকে বাস বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা। বিকল্প বাহন হিসেবে অন্য যানবাহন ব্যবহার করতে গিয়ে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া এবং নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময়।
সাপাহার থেকে আদালতে হাজিরা দিতে আসা আফসার আলী বলেন, ‘বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখি কোনো বাস চলছে না। বাধ্য হয়ে বিকল্প উপায়ে তিন দফায় নওগাঁ শহরে আসতে হয়েছে। ১৫০ টাকার ভাড়া ২০০ টাকা লেগেছে, আর সময়ও নষ্ট হয়েছে প্রায় দেড় ঘণ্টা।’
মান্দাগামী যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাস শ্রমিক আর অটোরিকশাচালকদের বিরোধের খেসারত সবসময় সাধারণ মানুষকে দিতে হয়। জরুরি কাজে বের হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হলো।’
জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে অটোরিকশা মালিকদের সঙ্গে ইতোমধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হলেও এখনও কোনো সুরাহা বা সমাধান হয়নি। এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত দাবি মানা না হবে, আমাদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।’
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, বাস চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আজ রাত ৯টা পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি। আগামীকাল সোমবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের আহ্বানে মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন, সড়ক পরিবহণ মালিক গ্রুপের নেতা, সিএনজিচালিত অটোরিকশার মালিক ও শ্রমিকদের নিয়ে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই সভায় উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন তিনি।

আসাদুর রহমান জয়, নওগাঁ