স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে সরকার : পানিসম্পদ মন্ত্রী
গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে ওঠার টার্গেট পয়েন্টে লক্ষ্য রেখেই সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে লক্ষ্মীপুর রহমতখালী খালে পোনা অবমুক্তকরণ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরে জেলা মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে পুকুরে অবমুক্তকরণের জন্য সরকারি-বেসরকারি ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের মাঝে মাছের পোনা বিতরণ করা হয়।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এবং দূরদর্শী চিন্তা থেকে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। সেটা ছিল একটা আন্দোলন, একটা বিপ্লব। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য নতুন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। এটা একটা জাগরণ সৃষ্টি হবে। দলমত নির্বিশেষে আমরা সবাই যদি এই কাজগুলোকে অগ্রাধিকার দিই, অর্থনৈতিক রূপান্তরের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পারবো। মাছে-ভাতে বাংলাদেশের মানুষ, নদীমাতৃক দেশ। সবকিছু মিলিয়ে আমরা নিজেরা নিজেদের অবস্থানটাকে আরও সুদৃঢ় করতে সক্ষম হবো। স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে ওঠার টার্গেট পয়েন্টে লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজগুলো অব্যাহত রেখেছি।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, নির্বাচনের পর থেকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী অনেকগুলো কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। তার মধ্যে বৃক্ষরোপণ অভিযান, সারাদেশে ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখনন আমরা হাতে নিয়েছি। আগামী ৫ বছরের মধ্যে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করবো। মৎস্য অবমুক্তকরণও আমাদের কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা গ্রামীণ অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। সামাজিকভাবে আমরা নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে আমরা কর্মসূচিগুলো পালন করে যাচ্ছি। পাশাপাশি সবকিছুর সঙ্গে পরিবেশের সম্পর্ক রয়েছে। রহমতখালী খাল লক্ষ্মীপুরের প্রাণ। ইতোমধ্যে খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাজ আমরা অব্যাহত রেখেছি। প্রচুর কচুরিপানা ছিল, সেগুলো আমরা পরিষ্কার করেছি। পানি যথেষ্ট প্রবাহ রয়েছে। আজ মাছ অবমুক্তকরণ করা হয়েছে। সবাই মিলে আমরা সামাজিক এ উদ্যোগকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।
এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ-জামান খান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন, জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপী প্রমুখ।

আবুল কালাম আজাদ, লক্ষ্মীপুর