নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি নিয়েছে : বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেছেন, দেশের জনসংখ্যার ৫১ শতাংশ নারী। এই বিশাল সংখ্যক নারীকে বাইরে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের জন্য বর্তমান সরকার বহুমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যেমনটি নিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার তৎকালীন সরকার।
আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এবতেদায়ি মাদ্রাসা থেকে টেলেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তিপ্রাপ্ত ১৭০ জন শিক্ষার্থীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী।
শরীফুল আলম বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার নারীদের উচ্চশিক্ষা, অর্থাৎ অনার্স পর্যন্ত বিনা বেতনে অধ্যায়নের কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া উচ্চশিক্ষায় বৃত্তির ব্যবস্থা, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং নানা কুটির শিল্প, পাটজাতদ্রব্য তৈরিতে প্রশিক্ষণসহ ঋণের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যেকোনো নারী ইচ্ছে করলেই এখন প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের পর সহজ শর্তে ঋণ গ্রহণ করে নিজেকে স্বাবলম্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।
উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আয়োজিত ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ক্রেস্টসহ একটি করে গাছের চারা তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, একটি গাছের চারাকে অতিসাধারণ মনে করা হলেও, এটি তা নয়। একটি গাছ আপনার পরিবারের একটি ভবিষ্যৎ সম্পদ। গাছটিকে যত্ন করে লালন করলে এটি হয়ে উঠবে আপনার জন্য, আপনার পরিবেশের জন্য এবং সামগ্রিকভাবে দেশের একটি অতিপ্রয়োজনীয় সম্পদ। কারণ গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, ছায়া দেয়, ফল দেয় এবং সর্বোপরি একটি গাছ আমাদের বিপদের সময় আর্থিকভাবে সহায়তা করে থাকে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছিদ্দিকুর রহমান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল হক, মো. নূরুজ্জামান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমানসহ অন্যান্যরা।
অনুষ্ঠানে উপজেলায় সর্বোচ্চ ২১টি টেলেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পাওয়ায় সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পুরস্কার প্রদান করা হয় কমলপুর মোজাফ্ফর বেপারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে।
অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষানুরাগী, রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের গোছামারা গ্রামে মুসলেহ উদ্দিন-তাহমিনা উচ্চবিদ্যালয়ের চারতলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং পৌর এলাকার সাতমুখীবিল এলাকার একটি পাকা রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।

মোস্তাফিজ আমিন, ভৈরব