পরকীয়ার জেরেই ট্রিপল মার্ডার, আসামির স্বীকারোক্তি : পিবিআই
আশুলিয়ার জামগড়ায় আলোচিত ক্লুলেস ‘ট্রিপল মার্ডার’ এর রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরকীয়া, অবৈধ শারীরিক সম্পর্কের জেরে গর্ভের সন্তানসহ পোশাক শ্রমিক নাজমা ও তার স্বামী আলমগীর কবিরকে হত্যার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা জেলা পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করে পিবিআই। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিবিআই ঢাকা জেলার ইনচার্জ এম এন মোর্শেদ, তদন্তকারী কর্মকর্তা আনিসুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের মোটিভ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মনিরুজ্জামান হৃদয় নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার তথ্য জানানো হয়। আসামি মনিরুজ্জামান হৃদয় এ ঘটনায় সঙ্গে জড়িত থাকায় বিষয়ে নিজের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানায় পিবিআই।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাইরে আসা দুর্গন্ধের সূত্র ধরে গত ৬ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ ভবন থেকে নবজাতকসহ আলমগীর কবির ও তার স্ত্রী নাজমার অর্ধ গলিত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার ছায়া তদন্তে নেমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকা থেকে বুধবার সকালে গ্রেপ্তার করা হয় মনিরুজ্জামান হৃদয়কে (৪৪)। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় নিহত নাজমার পার্স, সিমসহ মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র।
এদিন মনিরুজ্জামান হৃদয়কে আদালতে তোলা হয় এবং তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানায় পিবিআই।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মনিরুজ্জামান হৃদয় জানান, নাজমার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেম থাকায় তারা শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখছিলেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানতে পেরে নাজমার স্বামী আলমগীরের সঙ্গে হৃদয়ের বিরোধের সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন নাজমা ও আলমগীর আসামি হৃদয়কে তাদের বাসায় নিয়ে আসে। সেখানে সম্পর্কের বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে আলমগীর মনিরুজ্জামানকে মারধর করতে থাকে। এ সময় নাজমা মনিরুজ্জামানকে ঝাঁড়ু দিয়ে আঘাত করেন। মনিরুজ্জামানও প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে নাজমার পেটে লাথি দিয়ে ফেলে মনিরুজ্জামান। এতে গর্ভের সন্তানসহ নাজমা মারা যান। চোখের সামনে গর্ভের সন্তানসহ স্ত্রী খুন হতে দেখে আলমগীর খুন্তি ও পাইপ দিয়ে মনিরুজ্জামানকে আঘাত করে। তাদের মধ্যে ফের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় মনিরুজ্জামান আলমগীরকে মাথায় ও শরীরে উপর্যুপরি ঘুষি দিলে আলমগীরের দেহ নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এ সময় তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে মনিরুজ্জামান। এরপর মরদেহগুলো খাটে শুইয়ে রেখে পালিয়ে যান তিনি।

জাহিদুর রহমান