আমিন বাজারে এসআইকে পিটিয়ে হত্যা, গ্ৰেপ্তার ১
সাভারের আমিন বাজারে আলতাফ হোসাইন (৫৮) নামে পুলিশের এক উপপরিদর্শককে (এসআই) পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি ঢাকার মালিবাগে স্পেশাল ব্রাঞ্চে (এসবি) কর্মরত ছিলেন। এ সময় তার ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামও (২৬) গুরুতর আহত হয়েছেন।
গতকাল শনিবার দিনগত রাতে আমিনবাজার বরদেশি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে রাত থেকেই গোটা এলাকায় শুরু হয় সাঁড়াশি অভিযান। আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তারের কথা নিশ্চিত করেছে সাভার থানা পুলিশ।
এই ঘটনায় নিহত এসআই আলতাফ হোসাইনের স্ত্রী ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে জহিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে। তিনি ঘটনাস্থলে থাকা প্রাইভেটকারের মালিক বলে জানা যায়। তবে তদন্ত স্বার্থে বাকি আসামিদের পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।
নিহত এসআই আলতাফ হোসাইন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের প্রয়াত জুরাইন আলী শেখের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় ভাড়া থাকতেন। পাশাপাশি ওই এলাকায় নিজের পাঁচ শতাংশ জমিতে টিনশেডের একটি কারখানায় মিনি গার্মেন্টস পরিচালনা করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাত ১১টায় কারখানার কাছেই ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন আলতাফ হোসাইন। তখন একটি প্রাইভেটকারে করে আসা কয়েক যুবক এক বৃদ্ধ অটোরিকশাচালককে মারধর করতে দেখে তিনি এগিয়ে যান এবং প্রতিবাদ করেন। তখন ওই যুবকরা তাকেও মারধর শুরু করেন। এ সময় তিনি পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে দৌড়ে নিজের কারখানার ভেতরে ঢুকে পড়েন।
এ ঘটনার পর ওই যুবকরা আরও ১৫-২০ জনকে ডেকে এনে কারখানায় হামলা চালায়। তারা কারখানায় ঢুকে মেশিন ও গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্রও ভাঙচুর করে এবং আলতাফ হোসাইন ও তার ছেলে মো. আরিফকে পিটিয়ে চলে যায়। পরে প্রতিবেশীরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলতাফ হোসাইনকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, অপরাধীদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক উত্তর) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্তের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’
আমিনবাজার এলাকা মাদকের স্বর্গরাজ্য ও অপরাধ প্রবণ এলাকা। ২০০৭ সালের ৩ মার্চ সালেহপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুন হন র্যাব ১১-এর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর (ডিএডি) হুমায়ুন কবির এবং কনস্টেবল ফুল মিয়া। এ ছাড়া এখানে মতিউর রহমান নামে পুলিশের আরেক এসআইকেও হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।

জাহিদুর রহমান