ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ৫ সেপ্টেম্বর, পথসভা কুমিল্লায়
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। লংমার্চের অংশ হিসেবে ওইদিন দুপুর ১২টায় কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড এলাকায় নূরজাহান হোটেল সংলগ্ন মাঠে বড় ধরনের পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লায় এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরী আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।
লিখিত বক্তব্যে দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু হয়ে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে। পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। লংমার্চে এক হাজারের বেশি যানবাহন অংশ নেবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও মহানগর এলাকার নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেবেন।
জেলা আমির আরও জানান, কুমিল্লার পদুয়া বাজারের পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেবেন। জাতীয় নেতাদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, এনসিপির চেয়ারম্যান ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম অগ্রনায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ অন্যান্য নেতার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, লংমার্চ ও পথসভার মূল ভিত্তি ছয়টি দাবি। দাবিগুলো হলো অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
পথসভাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি ১১ দলীয় ঐক্যের পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে নূরজাহান হোটেলের পূর্ব পাশে বিস্তৃত এলাকায় পথসভার আয়োজন করা হয়েছে। সাংবাদিকদের জন্য পৃথক বসার ব্যবস্থা এবং ভিডিও ও ক্যামেরাম্যানদের জন্য আলাদা স্টেজ রাখা হবে।
আয়োজকরা জানান, লংমার্চ ও পথসভা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন করতে ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রুট, পথসভা ও কর্মসূচির বিভিন্ন স্থান সম্পর্কে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। সড়কে যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল মতিন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ড. সৈয়দ সরোয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি মাওলানা সোলাইমান, এবি পার্টি কুমিল্লা জেলা সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ তোফিক, ছাত্রশিবির কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি নাজমুল হাসান পঞ্চায়েত, কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল, কাউন্সিলর মোশাররফ হোসাইন, এনসিপি কুমিল্লা মহানগরী সদস্যসচিব মাসুমুল বারী কায়সার, এবি পার্টি কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি জিএস সামদানি, জাগপা কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি নজরুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ কুমিল্লা মহানগরী সহ-সভাপতি মাওলানা আমিনুল ইসলাম, কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ হোসাইন ও মিজানুর রহমান এবং শ্রমিক নেতা মু. খাইরুল ইসলাম।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা