বায়ুদূষণে শীর্ষে মালয়েশিয়ার কুচিং, ঢাকার অবস্থান কত?
ঢাকা, দিল্লি কিংবা করাচি নয়, এবার বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে মালয়েশিয়ার কুচিং শহর। অপরদিকে এই তালিকায় তুলনামূলক উন্নতি নিয়ে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শীর্ষ দশের বাইরে ১২তম স্থানে রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের তালিকায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বায়ুমান সূচক বা একিউআই অনুযায়ী কুচিংয়ের বাতাসের স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ৬০৩, যা ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ভয়াবহ মাত্রার বায়ুদূষণ নির্দেশ করে।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের একিউআই স্কোর ১৮৪ এবং তৃতীয় স্থানে থাকা ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসার স্কোর ১৫৩। এছাড়া পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল ও দূষিত বাতাসের তালিকায় চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা (১৪৯) এবং ভারতের দিল্লি (১৩১)।
তালিকার পরবর্তীতে রয়েছে ফিলিপাইনের ম্যানিলা (১২৬), মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর (১০৭), পাকিস্তানের লাহোর (১০৭), উজবেকিস্তানের তাসখন্দ (১০৪) ও মিসরের কায়রো (১০২)। ইসরায়েলের জেরুজালেম ৯৭ একিউআই নম্বর নিয়ে তালিকায় ১১তম স্থানে রয়েছে। অপরদিকে ঢাকার অবস্থান ১২তম স্থানে, যা পূর্বের বিপজ্জনক পরিস্থিতির তুলনায় কিছুটা স্বস্তিদায়ক।
একিউআই মান অনুযায়ী, ৫০ থেকে ১০০ স্কোর থাকলে তখন বায়ুর গুণমানকে ‘মাঝারি’ বলে বিবেচনা করা হয়। একিউআই সূচক ১০১ থেকে ১৫০ এর মধ্যে হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময় সাধারণত সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে হলে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়, ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয়। এ ছাড়া ৩০১ এর বেশি হলে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।
বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে। সেগুলো হলো—বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)। দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণে ভুগছে ঢাকা। এর বাতাসের গুণমান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায় এবং বর্ষাকালে কিছুটা উন্নত হয়।
২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো—ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলো।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুসারে, বায়ুদূষণের ফলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যানসার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক