সাত কর্ম দিবসে রায় : ছেলের মৃত্যুদণ্ড, বাবার যাবজ্জীবন
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের মালিয়াট গ্রামে কৃষক নায়েব আলী হত্যা মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপরজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আল-আমিন পাটোয়ারী ও তার বাবা ইউনুছ আলী পাটোয়ারী।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশেষ দায়রা জজ (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মাসুদ আলী এ দণ্ডাদেশ দেন।
প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এ হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর মাত্র সাত কার্যদিবসে আসামিদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, মাত্র ৬ শতক জমি নিয়ে নিহত নায়েব আলী ও যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ইউনুছ আলী পাটোয়ারীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে ২০২৫ সালের ২৮ মে সকালে তাকে বাঁশের লাঠি ও রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ইউনুছ আলী পাটোয়ারী ও তার ছেলে আল-আমিন পাটোয়ারী। এই ঘটনায় নিহত নায়েব আলীর ছেলে বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে ২৯ মে তিনজনের নাম উল্লেখ করে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে আল আমিন পাটোয়ারী ও তার বাবা ইউনুছ আলীকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শামীম আক্তার। অভিযুক্ত আল-আমিনের মা রাশিদা বেগমের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ না থাকায় তার নাম বাদ দেন এসআই মো. শামীম আক্তার।
এরপর প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এ হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর মাত্র সাত কর্ম দিবসে রায় ঘোষণা করা হয়। আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে নায়েব আলী হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আল-আমিনকে ফাঁসিসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও তার বাবা ইউনুছ আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এস এম মশিয়ুর রহমান ও অ্যাডভোকেট মো. আকিদুল ইসলাম। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আবু তালেব ও অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম।

মনজুরুল আহসান, ঝিনাইদহ (সদর-কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর)
মিজানুর রহমান, ঝিনাইদহ