হাওর এলাকার উন্নয়নে উড়াল সড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
সুনামগঞ্জে হাওর এলাকায় উড়ালসড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনাবাজার এলাকায় আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে এ প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল।
হাওর এলাকায় এর আগে কখনও এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি।
সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান ভিত্তি প্রস্তর অনুষ্ঠানে বলেন, এ প্রকল্পে হাওর এলাকার চিত্র বদলে যাবে। হাওর এলাকায় যোগাযোগ, চিকিৎসায় আলোয় নিয়ে আসবে এ উড়ালসড়ক প্রকল্প। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়ে গেলে মানুষ সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারবে। এ ছাড়া সড়ক পথে উপজেলা সদর থেকে জেলা সদর ও রাজধানীর সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারবে এবং মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক ফেরদৌস আহমেদ, জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন ও জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক আনিসুল হক।
এর আগে, ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) ‘হাওর এলাকায় উড়ালসড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’ অনুমোদিত হয়। তখন এর ব্যয় ধরা হয় তিন হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ তিন বছর। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। তবে এখন প্রকল্পের ব্যয় কিছু কমিয়ে তিন হাজার ৪৫২ কোটি টাকা করা হয়েছে।
নেত্রকোনা জেলা অংশে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন। গত ৩১ জুলাই প্রকল্পে কাজ পরিদর্শন করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা এবং নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলাজুড়ে এ প্রকল্পের কাজ হবে। উড়ালসড়ক শুরু হবে জামালগঞ্জের সাচনা এলাকা থেকে। এরপর উপজেলার কাজীরগাঁও হয়ে ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী, ধর্মপাশা বাজার, ধর্মপাশার আলোকদিয়া হয়ে নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার গোপালপুরে সড়কে গিয়ে যুক্ত হবে। এটিই প্রকল্পের মূল সড়ক, যার দৈর্ঘ্য হবে ২৮ কিলোমিটার। এই ২৮ কিলোমিটারের মধ্যে উড়ালসড়ক হবে ১০ দশমিক ৮১ কিলোমিটার। এ সড়কের বাকিটুকু হবে সব মৌসুমে যাতায়াতের সড়ক। উড়ালসড়ক যাবে গ্রামের পাশ দিয়ে। সড়কের প্রস্থ হবে ৩০ মিটার, তবে এটা আরও বাড়তে পারে।
দৃষ্টিনন্দন সড়কের বিভিন্ন স্থানে পর্যটকদের জন্য সাতটি দোতলা টাওয়ার নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে এক কিলোমিটার পরপর সড়কের পাশেই পর্যটকদের ঘুরে বেড়ানো এবং যানবাহন রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। যেখানে সম্ভব সড়কের দুই পাশে হিজল ও করচগাছ লাগানো হবে। হাওরের প্রাণ-প্রকৃতির বিষয়টি মাথায় রেখে উন্নত বিশ্বের আদলে থাকবে শব্দ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। এ প্রকল্পের মাধ্যমে সুরমা নদীর জামালগঞ্জ-সাচনাবাজার এলাকায় একটি সেতু নির্মিত হবে। এ উড়ালসড়ক হলে সুনামগঞ্জের মানুষ নেত্রকোনা হয়ে অল্প সময়ে ঢাকায় যেতে পারবে।

দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী, সুনামগঞ্জ