৬ মাস ধরে কাদায় বাঁধা মহিষ ইউএনওর হস্তক্ষেপে উদ্ধার
ঝিনাইদহের মহেশপুরে ছয় মাস ধরে কাদায় বেঁধে রাখা চারটি মহিষ উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হস্তক্ষেপে মহিষগুলোকে উদ্ধার করে শুকনো ও নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর করা হয়।
এর আগে গতকাল রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পশুগুলোর ভিডিও প্রকাশ পেলে বিষয়টি নজরে আসে ইউএনও সাজ্জাদ হোসেনের।
স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার স্বরূপপুর ইউনিয়নের গোকূলনগর গ্রামের আব্দুল আলিম ছয় মাস ধরে কাদার মধ্যে চারটি মহিষ বেঁধে রেখেছিলেন। মহিষগুলোকে কাদাপানির মধ্যেই খাবার দেওয়া হতো। এমনিভাবে কাদায় দাঁড়িয়ে থাকত মহিষগুলো। অবলা পশুগুলোর সঙ্গে এমন আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন অস্বাভাবিক ও কষ্টকর পরিবেশে থাকায় মহিষগুলোর অবস্থা দিনদিন খারাপের দিকে যাচ্ছিল। মহিষগুলোকে কাদা থেকে তুলে শুকনো ও নিরাপদ স্থানে রাখার অনুরোধ করলেও মহিষের মালিক আব্দুল আলিম কারও কথা শোনেননি। পরে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা কাদায় আটকে থাকা মহিষগুলোর দুর্দশার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন। ভিডিওটি ইউএনওর নজরে এলে তিনি মহিষগুলো উদ্ধারের উদ্যোগ নেন।
স্থানীয় পশুপ্রেমী নাজমুল হোসেন বলেন, প্রাণীরা মানুষের মতো নিজেদের কষ্টের কথা বলতে পারে না। কিন্তু তাদেরও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। চারটি মহিষকে দীর্ঘদিন ধরে এমন কাদার মধ্যে আটকে রাখার দৃশ্য সত্যিই হৃদয়বিদারক।
আব্দুল আলিমের বৃদ্ধা মা সত্যা খাতুন বলেন, ছেলেকে একাধিকবার বলেছি মহিষগুলোকে ভালো স্থানে রাখতে কিন্তু সে কারো কোনো কথাই শুনত না। মহিষগুলোকে কাদাপানিযুক্ত স্থানে বেঁধে রাখত। সব সময় ওখানেই খেতে দিত।
সত্যা খাতুন আরও বলেন, বাড়ির সবাই আলিমকে বলত মহিষগুলোকে শুকনো জায়গায় রাখতে। এ কথা শুনলেই সে তাদের ওপর চড়াও হতো এবং বকাঝকা করত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মহিষগুলোকে উদ্ধার করে শুকনো স্থানে রাখার হয়েছে। এর মালিককে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মহিষগুলোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা, শুকনা মেঝে, খাবার-পানি এবং নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মনজুরুল আহসান, ঝিনাইদহ (সদর-কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর)