নওগাঁয় অপ্রত্যাশিত ফলাফলপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুপ্রেরণামূলক সমাবেশ
‘তোমার ফলাফল, তোমার গল্পের শেষ নয়’ প্রতিপাদ্যে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অপ্রত্যাশিত ফলাফল প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুপ্রেরণামূলক শিক্ষক-অভিভাবক-শিক্ষার্থী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে নওগাঁয়।
আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এমন সমাবেশের আয়োজন হয়। মূলত পরীক্ষায় অপ্রত্যাশিত ফলাফল প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মানসিক শক্তি প্রদান এবং তাদের আত্মবিশ্বাস ফেরানোর জন্যই এমন সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
সমাবেশে উৎসাহ প্রদান ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদৎ হোসেন, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. মুনির আলী আকন্দ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন মাহমুদ, পোরশার ইউএনও মো. রাকিবুল ইসলাম, নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. রাবেয়া খাতুন, অভিভাবক মিনানুর রহমান মিনু।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়শা সিদ্দিকা, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা তাদের জীবনের সফলতা ও ব্যর্থতার গল্প তুলে ধরেন। অনুষ্ঠান শেষে র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। র্যাফেল ড্রয়ের মাধ্যমে ২০ শিক্ষার্থীকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরস্কার দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, পুরো জীবনই একটি সফলতার গল্প। যারা হেরে গিয়ে আবার নতুন করে জীবনকে সাজিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তারা কখনোই হেরে যায় না। তাই এসএসসিতে খারাপ ফলাফল মানে আর ভালো কিছু করা সম্ভব নয়—এমন ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। জীবনের প্রতিটি দিনই এক একটি সফলতার দিন। তাই আগামীতে আরও ভালো ফলাফল করার শক্তি ও সাহস বুকে ধারণ করতে হবে। এ ছাড়া বিশ্বের সব বিখ্যাত ব্যক্তিই কিন্তু হেরে যাওয়ার পর নতুন অনুপ্রেরণায় নতুন করে জীবনকে সাজানোর চেষ্টা করেছেন বলেই আজ তারা বিশ্ববিখ্যাত।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, নিজের ভাগ্যকে শতভাগ বিশ্বাস করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। প্রতিটি মানুষ তার জীবনের প্রত্যাশিত চাওয়ার পুরোটাই কখনো পায় না। আজ যারা ভালো কিংবা প্রত্যাশিত ফলাফল করতে পারনি তারাই আগামী দিনে অনেক ভালো কিছু করার ক্ষমতা রাখো। আগামীতে আরো ভালো কিছু করার জন্য অবশ্যই অভিভাবকদের নিজের সন্তানের প্রতি আরও বেশি যত্নশীল হতে হবে। আজ সন্তান ভালো কিছু করতে পারেনি মানে এটা নয় যে তার দ্বারা আগামীতে আরও ভালো কিছু করা সম্ভব নয়।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন আজ বিশ্বে যারা অনেক অর্থশালী তারা একজীবনে অনেক ছোট কর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু সেই মানুষদের প্রধান শক্তি ছিল কঠোর মনোবল। অনেক শক্তিশালী মনোবল ওই বিখ্যাত মানুষদের বুকে ছিল বলেই আজ তারা নিজের কর্মগুণে জগৎ বিখ্যাত। তাই ভালো কিছু হয়নি বলে ভেঙে পড়ে হাল ছেড়ে দেওয়া মানেই নিজেকে পরাজিত করা। তাই হাল না ছেড়ে আগামীর জন্য নতুন করে প্রস্তুতি গ্রহণ করার কোনো বিকল্প নেই। আর এমন কাজে অভিভাবক, শিক্ষক ও সহপাঠিদের বেশি বেশি করে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নওগাঁর সাতটি উপজেলার মোট ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাস করতে পারেনি কোনো শিক্ষার্থী। শতভাগ ফেলের মধ্যে রয়েছে মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো। এমন ফলাফল থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যেই মূলত এমন আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

আসাদুর রহমান জয়, নওগাঁ