এনটিভি অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর শিখার পাশে দাঁড়াল উপজেলা প্রশাসন
‘প্রতিবন্ধী স্বামী-সন্তান নিয়ে অসহায় শিখার বেঁচে থাকার লড়াই’—শিরোনামে এনটিভি অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর অসহায় শিখা বেগমের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন।
আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পীরগঞ্জ পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওসমানপুর গ্রামের বাসিন্দা শিখা বেগমকে ঘর নির্মাণের জন্য নগদ অর্থ ও টিন দেওয়া হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ফুটো ছাউনির ঘরে বসবাস করা পরিবারটির নিরাপদ আশ্রয়ের স্বপ্ন কিছুটা হলেও পূরণের পথে এগিয়েছে।
শিখা বেগমের স্বামী শাহ আলম মিয়া কয়েক বছর আগে কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় দুই পা হারিয়ে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন। এরপর থেকে দুই শিশু সন্তান ও প্রতিবন্ধী স্বামীকে নিয়ে সংসারের দায়িত্ব একাই সামলাচ্ছেন শিখা।
পরিবারটির বসবাসের ঘরটি ছিল অত্যন্ত জরাজীর্ণ। মাটির দেয়ালের বিভিন্ন অংশ খসে পড়েছে। টিনের ছাউনির অসংখ্য ফুটো দিয়ে বৃষ্টির পানি ঘরের ভেতরে পড়ত। বৃষ্টির সময় বিছানা, কাপড়চোপড়সহ ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভিজে যেত। কখনও কখনও ছোট সন্তানদের নিয়ে ঘরের এক কোণে বসেই রাত কাটাতে হতো শিখাকে।
এমন দুর্বিষহ জীবনযাপনের বিষয়টি তুলে ধরে এনটিভি অনলাইনে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানের উদ্যোগে পরিবারটির জন্য ঘর নির্মাণে অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ মিয়া। সহায়তা পেয়ে শিখার পরিবারের সদস্যরা উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
শিখা বেগম বলেন, ‘বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতরে পানি পড়ত। বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে থাকতে হতো। এখন প্রশাসন আমাদের ঘর করার জন্য সাহায্য করেছে। এতে আমাদের অনেক উপকার হলো।’
ইউএনও মাহমুদুল হাসান বলেন, সংবাদটি নজরে আসার পর পরিবারটির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তাদের ঘর নির্মাণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

মো. রতন মিয়া, রংপুর (পীরগঞ্জ-মিঠাপুকুর)