কারাগারে থেকে গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগ, ওসি ও আইওকে শোকজ
রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা এলাকায় প্রাইভেটকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় মেজর মো. সাদিকুল হককে (৩০) গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ। তবে এই গ্রেপ্তারের আবেদনে অসঙ্গতি থাকায় ওসি, তদন্ত কর্মকর্তা (আইওকে) কারণ দর্শাতে বলেছেন আদালত।
আজ সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এই আদেশ দেন।
ঢাকার অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক( এসআই) কামাল হোসেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ ঢাকার সিএমএম আদালতে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলামকে এবং তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক( এসআই) মো. চাঁদ আলীকে আগামী ১৬ অগস্ট এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ভাটারা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গত ৭ আগস্ট মেজর সাদিককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) চাঁদ আলী। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন সোমবার। এদিন শুনানিকালে মেজর সাদিককে আদালতে হাজির করা হয়।
নথি থেকে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর রাত ১২টার দিকে প্রতিদিনের মতো ভাটারা থানার বিটুমিন গেটের সামনে প্রাইভেটকার রেখে বাসায় যান মনির হোসেন। ভোর ৬টার দিকে তার পরিচিত ড্রাইভার মো. মনির তাকে ফোন দেন। জানান, তার প্রাইভেটকারটি আগুনে পুড়ে গেছে। এই সংবাদে পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে গাড়িতে আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে ভাটারা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তখন স্থানীয় জনগণ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে তিনি সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও জানতে পারেন, নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ ১৩ নভেম্বর ঢাকা শহরে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে অজ্ঞাতনামা আসামিরা ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের আশ্রয়ে, অর্থায়নে ও প্ররোচনায় দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও তাদের ২০-২৫ জন অজ্ঞাতনামা সমর্থক তার গাড়িতে আগুন দেয়।
এই ঘটনায় ওইদিনই মনির হোসেন ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন। আগুনে তার গাড়ির দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
সামরিক আদালত থেকে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে চাকুরিচ্যুত করে মেজর সাদিককে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে ঢাকা কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তাকে ভাটারা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

আদালত প্রতিবেদক