বালিশচাপায় হত্যার অভিযোগে ছোট মেয়েসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা, মরদেহ উত্তোলন
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে অসুস্থ বৃদ্ধ বাবার ব্যাংকের ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৬৩৮ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ এবং পরে তাকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে ছোট মেয়েসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে মামলাটি সাদুল্লাপুর থানায় এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য গতকাল মঙ্গলবার (৪ জুলাই) গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তালুক সাহাবাজ গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ তৈয়ব আলী সরকারের অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তার ছোট মেয়ে রহিমা বেগম ও ভাগ্নি জামাতা হামিদুল ইসলামসহ একটি চক্র চুরি যাওয়া চেকবই ব্যবহার করে ব্যাংক হিসাব থেকে ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৬৩৮ টাকা আত্মসাৎ করে। পরবর্তীতে আত্মসাতের বিষয়টি গোপন রাখা ও সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে গত ১৯ মে রাতে অভিযুক্তরা তৈয়ব আলী সরকারকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর দ্রুত দাফন সম্পন্ন করে। তবে কাফনের কাপড়ে রক্তের দাগ দেখতে পাওয়া এবং ব্যাংক হিসাবের জালিয়াতির তথ্য সামনে এলে নিহতের বড় মেয়ে মোছা. কহিনুর বেগম আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন- নিহতের ছোট মেয়ে রহিমা বেগম, ভাগ্নি জামাতা হামিদুল ইসলাম, ভাগ্নি সুমাইয়া আক্তার ও নলডাঙ্গা শাখার ব্যাংক ম্যানেজার সোহাগ মিয়া। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান, সাদুল্লাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপন এবং নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুরের উপস্থিতিতে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয়।
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, বৃদ্ধের মেয়ে বাদী হয়ে আদালতে মামলাটির জন্য আবেদন করেন। পরে আদালত আমাদেরকে মামলটি রুজু করতে নির্দেশ দেন। আমরা মামলা রেকর্ড করি।

লিটন প্রামানিক, গাইবান্ধা (সাদুল্লাপুর-সুন্দরগঞ্জ)