স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করায় ছুরিকাঘাতে হত্যা, গ্রেপ্তার ১
ফেনী শহরের মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে ঘুমন্ত স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করায় দিনমজুর নূর নবী হোসেনকে (৩০) ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি মো. শাহ পরান ফয়সাল ওরফে সাদ্দাম হোসেনকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে মডেল থানা পুলিশ। সেই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ধারালো ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গতকাল রোববার ভোর সাড়ে ৫টায় মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে ঘুমিয়ে থাকা নূর নবী হোসেন ও তার স্ত্রী ফাতেমার কাছে আসে দাগনভূঞা থানার দক্ষিণ নেয়াজপুর গ্রামের মৃত শাহ আলমের ছেলে মো. শাহ পরান ফয়সাল। পরে ফাতেমার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। এ সময় ফাতেমার স্বামী নূর নবী তকে বাধা দেন। তখন ফয়সাল নূর নবীকে মারধর করে সঙ্গে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে পেটের দুই পাশে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর ঢাকায় নেওয়ার পথে তার অবস্থার অবনতি হলে ফেনী সদর হাসপাতালে ফিরিয়ে আনলে সকাল পৌনে ১০টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নূর নবী হোসেন ভোলা সদরের নিচ কাছিয়া গ্রামের আবদুর রবের ছেলে। তিনি নদী ভাঙনে সবর্স্ব হারিয়ে ফেনী এসে প্লাস্টিকের বোতল কুঁড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এ ঘটনায় নিহত নূর নবী হোসেনের স্ত্রী ফাতেমা বাদী হয়ে মডেল থানায় ৩০২ ধারায় একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর পুলিশের একটি আভিযানিক দল রোববার দিনগত রাত ১২টায় দাগনভূঞা থেকে অভিযুক্ত আসামি মো. শাহ পরানকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে একটি পরিত্যক্ত গর্ত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিটি উদ্ধার করে পুলিশ।
মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাস জানান, গ্রেপ্তর করা আসামির বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও মাদকসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

জাহিদুল রাজন, ফেনী জেলা (সদর-ছাগলনাইয়া)