কেশবপুরে ভুয়া আয়কর কর্মকর্তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড
যশোরের কেশবপুরে সরকারি কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির সময় উৎপল কুমার রায় (৩৩) নামের এক প্রতারককে আটক করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।
দণ্ডপ্রাপ্ত উৎপল কুমার রায় যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার মৃত রবীন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উৎপল কুমার রায় কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি বাজারের শরিফুল ইসলাম পলাশ নামের এক ব্যক্তির বিকাশের দোকানে যান। সেখানে নিজেকে ‘আয়কর অফিসার’ পরিচয় দিয়ে পলাশের কাছে আয়কর রিটার্নের কাগজপত্র দেখতে চান। পলাশ তাৎক্ষণিকভাবে কাগজ দেখাতে ব্যর্থ হলে মামলার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। নিরুপায় হয়ে পলাশ তাকে ৫ হাজার টাকা প্রদান করেন।
এখানেই ক্ষান্ত না হয়ে ওই ভুয়া কর্মকর্তা হাসানপুর বাজারে যান। সেখানেও একইভাবে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে আয়কর রিটার্নের কাগজ দেখতে চান। ব্যবসায়ীদের ট্যাক্সের কাগজ না থাকায় প্রত্যেকের কাছে ১০ হাজার টাকা করে দাবি করেন এবং টাকা না দিলে বড় ধরনের মামলার হুমকি দেন।
উৎপল কুমার রায়ের কথাবার্তা ও আচরণে হাসানপুর বাজারের ব্যবসায়ীদের সন্দেহ তৈরি হয়। একপর্যায়ে ব্যবসায়ীরা তাকে চ্যালেঞ্জ করলে বেগতিক দেখে তিনি নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে পিছু ধাওয়া করে তাকে ধরে ফেলে। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
আটক উৎপল কুমার রায় উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে নেওয়া হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. রেকসোনা খাতুন তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। সরকারি কর্মচারীর ভুয়া পরিচয় বা ছদ্মবেশ ধারণ করার অপরাধে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৭০ ধারা অনুযায়ী তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত পরিচালনার সময় সাজাপ্রাপ্ত উৎপল কুমারের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন এবং আয়কর অফিসের বিভিন্ন ধরনের ভুয়া কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. রেকসোনা খাতুন বলেন, উৎপল কুমার রায় নামের এক প্রতারক সরকারি ভুয়া আয়কর অফিসার পরিচয় দিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের হয়রানি ও চাঁদাবাজি করছিল। হাতেনাতে আটকের পর অপরাধ স্বীকার করায় তাকে আইনানুযায়ী ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের প্রতারকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

ইনামুল হাসান, যশোর (মনিরামপুর-কেশবপুর)