কুমিল্লা নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ভাঙা হলো ৩ কালভার্ট
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে (কুসিক) সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে এসকেভেটর দিয়ে ভাঙা হলো তিন কালভার্ট। গতকাল সোমবার থেকে আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত কান্দিখাল পরিদর্শন শেষে কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর উপস্থিতিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
টানা ভারি বর্ষণে নগরজুড়ে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার পানি নিষ্কাশনে ধীরগতির কারণ অনুসন্ধানে নামে কুসিক প্রশাসন। এরপর শহর থেকে দক্ষিণে পানি অপসারণের অন্যতম প্রধান পথ কান্দিখালে একের পর এক প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করে কুসিক প্রশাসন। অভিযানে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা দুটি কালভার্ট ও একটি ভেঙে পড়া স্টিল ব্রিজ এসকেভেটর দিয়ে অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের একাধিক পাইপলাইনকেও পানি চলাচলের বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কুসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন বলেন, খাল দখলকারী অন্তত ৪৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ১৫টি অপরিকল্পিত স্টিল ব্রিজ ও কালভার্টের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
কান্দিখাল দিয়ে নগরীর পানি গুঙ্গাইজুড়ি খাল হয়ে দক্ষিণে ডাকাতিয়া নদীতে গিয়ে পড়ে। ভারি বৃষ্টিতে শহরে অতিরিক্ত পানি জমলে এই খালই প্রধান নিষ্কাশন পথ হিসেবে কাজ করে। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত কালভার্ট, স্টিল ব্রিজ ও বিভিন্ন স্থাপনার কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে খাল উপচে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
গতকাল সোমবারের ভারি বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কারণে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। এর পরই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করতে মাঠে নামে কুসিক প্রশাসন।
অভিযানে দেখা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের সামনে পথচারীদের জন্য নির্মিত একটি কালভার্ট এবং কুমিল্লা মডার্ন হাসপাতালের দক্ষিণ পাশের আরেকটি কালভার্ট পানি প্রবাহে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এ ছাড়া একটি স্টিল ব্রিজ ভেঙে খালের মধ্যে পড়ে থাকায় পানি চলাচল আরও ব্যহত হচ্ছিল। পরে কুসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিষ্কাশন বিভাগের কর্মীরা এসকেভেটরের সাহায্যে দুটি কালভার্ট ও ভেঙে পড়া স্টিল ব্রিজ অপসারণ করেন। এতে খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, নগরবাসীকে পানিতে ডুবিয়ে রেখে কেউ ইচ্ছেমতো ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করবে, তা আর হতে দেওয়া হবে না। যেগুলো পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, সেগুলো নিজে উপস্থিত থেকে অপসারণ করেছি। এই অভিযান চলমান থাকবে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন বলেন, কান্দিখালের বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত আরও ১৫টি স্টিল ব্রিজ ও কালভার্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। আজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মালিকদের নোটিশ পাঠানো হবে। নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে স্থাপনাগুলো অপসারণ বা প্রয়োজনীয় উচ্চতায় উন্নীত না করলে সিটি করপোরেশন নিজ উদ্যোগে এসকেভেটর দিয়ে সেগুলো অপসারণ করবে।
মোহাম্মদ মামুন বলেন, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের একাধিক গ্যাস পাইপলাইন খালের ওপর লম্বালম্বিভাবে স্থাপন করায় সেখানে আবর্জনা জমে পানি চলাচলে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বাখরাবাদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং দ্রুত সমস্যা সৃষ্টি করা পাইপলাইন অপসারণ অথবা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।
কুসিকের কর্মকর্তাদের মতে, পানি নিষ্কাশনের প্রধান খালগুলো থেকে সব ধরনের অবৈধ দখল ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা গেলে ভবিষ্যতে ভারি বৃষ্টিতেও নগরীর জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা