ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে প্রাণঘাতী সহিংসতা রোধে হাইকোর্টে রিট
ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে প্রাণঘাতী সহিংসতা, জনদুর্ভোগ এবং তীব্র শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। রিটে আইন সচিব, স্বরাষ্ট সচিব, পুলিশের আইজিপিসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে। একইসঙ্গে সর্বসাধারণের জন্য প্রদর্শনী, উদযাপনের সময় আতশবাজি বা লাউড স্পিকারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে একটি নীতিমালা করতে নির্দেশনা এবং রাত ১১টার পর উচ্চ শব্দ নিয়ন্ত্রণ ও আতশবাজির ব্যবহার বন্ধেও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এ রিট করেন।
রিটের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি পত্রিকার খবর অনুসারে এ পর্যন্ত ১১ জন ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে মারা গেছেন। এ ছাড়া রাতে উচ্চ শব্দে আতশবাজি ফুটিয়ে উদযাপন করা হয়। এতে শিশু ও বৃদ্ধসহ জনসাধরণের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। তাই এ রিট করা হয়েছে।
রিটের সঙ্গে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনও যুক্ত করা হয়। এতে বলা হয়, ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে দুনিয়াজুড়ে বইছে উন্মাদনার ঝড়। ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরে বাংলাদেশ খেলার সুযোগ না পেলেও এখানে উত্তেজনার কমতি নেই। জনপ্রিয় দলগুলোর সমর্থকরা বাগযুদ্ধেই মাঠ গরম করে রাখছেন। এই বিরোধিতা মাঝে মাঝে প্রাণঘাতী সংঘাতেও রূপ নিচ্ছে। এবারের বিশ্বকাপ ঘিরে নানা ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের প্রাণ গেছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫ জন।
যদিও সর্বশেষ তথ্যানুসারে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশ্বকাপ উন্মাদনায় এ পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে।
এ বিষয়ে ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, যেখানে বড়পর্দায় খেলা দেখানো হবে, সেখানে ডিবি নজরদারি করবে।
সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, খেলা বিনোদনের অংশ, তাতে জয়-পরাজয় থাকবে— এটি মেনে নেওয়ার মানসিকতায় ঘাটতি আছে আমাদের। তবে এটি শুধু ক্রীড়াক্ষেত্রে নয়, জাতিগতভাবেই আমরা রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক— কোনো ক্ষেত্রেই জয়-পরাজয় স্বাভাবিকভাবে নিতে পারি না।

নিজস্ব প্রতিবেদক