ফরিদপুরে একসঙ্গে ৫ নবজাতকের জন্ম, দুজনের মৃত্যু
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচ নবজাতক জন্ম দিয়েছেন এক প্রসূতি। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে তিন ছেলে ও দুই মেয়েসহ পাঁচ নবজাতকের জন্ম হয়। তবে জন্মের পর পরই দুই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। তার স্বামীর নাম মো. হাসান মোল্লা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ভবুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা চাঁদনী আক্তার প্রসব বেদনা নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। নগরকান্দা উপজেলার ভবুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা চাঁদনী আক্তার পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন তিনি।
জন্ম নেওয়া পাঁচ নবজাতকের মধ্যে দুজন মারা গেলেও বাকি তিন নবজাতককে হাসপাতালের ৯ম তলার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মা ও জীবিত তিন নবজাতক বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মা ও নবজাতকদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, দুপুর ২টা ৭ মিনিট থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ওই প্রসূতি মা একে একে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন। অকালপ্রসবের কারণে নবজাতকদের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম হয়েছে। শিশুগুলোর ওজন যথাক্রমে ৩৪০ গ্রাম, ৬০০ গ্রাম, ৭২০ গ্রাম ও ৮১৫ গ্রাম।
হাসপাতালের স্টাফ নার্স মিনতি সরকার জানান, মাত্র সাত মাস বয়সে জন্ম হওয়ায় কোনো শিশুরই ওজন ও গঠন পরিপূর্ণ হয়নি। এমনকি কয়েকটির এখনও চোখও ফোটেনি। ফলে নবজাতকগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
চাঁদনী বেগমের বাবা ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার পুরাপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর মোল্লা জানান, প্রসববেদনা উঠলে দুপুরে মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে পাঁচ সন্তানের জন্ম হয়। তবে দুঃখজনকভাবে দুটি সন্তান ইতোমধ্যেই মারা গেছে। বাকি তিন শিশু ও মা বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বছরখানেক আগে নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভবুকদিয়া গ্রামের হাসান মোল্লার সঙ্গে জাহাঙ্গীর মোল্লার মেয়ে চাঁদনী বেগমের বিয়ে হয়। চাঁদনী বর্তমানে একটি কলেজের স্নাতক (অনার্স) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। এটিই তার প্রথম প্রসবের ঘটনা।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর