এবার শাপলা চত্বরে হত্যা মামলার আসামি হচ্ছেন হাসানুল হক ইনু
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি হতে পারেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু।
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ইনুর বিরুদ্ধে যে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাতে তিনি শাপলা চত্বরের মামলায় আসামি হতে পারেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা একটি মামলার রায়ে গত মঙ্গলবার হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ইনু তথ্যমন্ত্রী থাকার সময় (২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে) হেফাজতের এ ঘটনা সংঘটিত হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন দিগন্ত টেলিভিশন এবং ইসলামিক টেলিভিশনের লাইভ টেলিকাস্ট বন্ধ করা হয়। শুধু তা-ই নয়, ওই রাতে ইসলামিক টেলিভিশনের অফিস ভাঙচুর করা হয়। শুধু তা-ই নয়, ওই একই রাতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই দুটি টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। শেখ হাসিনার পুরো আমলে ওই দুটি টেলিভিশন বন্ধ ছিল।
আমিনুল ইসলাম বলেন, তখন তথ্যমন্ত্রী হিসেবে ইনু এই শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড গোপন করার জন্য এবং আলামত নষ্ট করার জন্য দুটি টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করেন। এভাবে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ইনুর সহযোগিতা ছিল। এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন খুব শিগগির দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধে গত ৩০ জুন রায় হয় জাসদ নেতা ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর। রায়ে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে, এখানেই শেষ নয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় এবার আসামি হচ্ছেন হাসানুল হক ইনু।

নিজস্ব প্রতিবেদক